
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫ এর পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, জাল নোটিশ তৈরি, বেআইনি সম্পদ অর্জন ও জোন-৪ (গুলশান)-এ বদলির জন্য প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এই বিষয়ে একটি নতুন লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়, হামিদুল ইসলাম অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের মাধ্যমে ভবনের নকশা ও নিয়ম ভাঙার অজুহাতে মালিকদের নোটিশ পাঠাতেন। পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সেই নোটিশের ফাইল গায়েব করে দেওয়া হতো।
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:
-
চাকরিপ্রার্থীদের সাথে প্রতারণা: ২০১৬-১৭ সালে ড্রাইভার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে চাকরি বা টাকা কোনটিই ফেরত পাননি তারা।
-
ইমারত পরিদর্শকদের বেআইনি বণ্টন: এলাকা বন্টনের বিনিময়ে পরিদর্শকদের কাছ থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ৫-১০ লাখ টাকা হারে মাসোহারা আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
-
মোবাইল কোর্ট রফা: নিউ এলিফ্যান্ট রোডের দুটি ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর যথাক্রমে ২০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আইনগত ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
-
অবৈধ সম্পদ অর্জন: রংপুরের মিঠাপুকুরের রূপসা গ্রামের অধিবাসী ও দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই কর্মকর্তা ২০০৭ সালে সহকারী সচিব হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালের পর থেকে রংপুর এবং ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও কৃষি জমি ক্রয়ের কথা বলা হয়েছে।
বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া:
-
মোঃ হামিদুল ইসলাম (অভিযুক্ত পরিচালক): অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, “এসব পুরনো অভিযোগ। পূর্বে এক অভিযোগকারী তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আমি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছি এবং তদন্ত হলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।”
-
প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম (রাজউক চেয়ারম্যান): তিনি জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বজায় রাখতে রাজউক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
-
মোঃ শাহজাহান আলী (দুদক কর্মকর্তা): প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ শেষে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কাজ পরিচালনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
-
ড. ইফতেখারুজ্জামান (নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি): তিনি উল্লেখ করেন, রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম পুরো নগর পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বর্তমানে ২০৩৬ সালের নভেম্বরে অবসরে যেতে যাওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার দুদকে নথি জমা পড়েছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর সচেতন নাগরিকদের।
অনলাইন ডেস্ক 





















