
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড়। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে এই দম্পতির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধারের ঠিক দু’দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি), সাংস্কৃতিক কর্মী রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি সিডি সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।
এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তার নির্দেশনায় তাঁরই একজন সহকারী (সার্জেন্ট) রোকেয়া প্রাচীর থেকে এই সিডি দুটি গ্রহণ করেন। তবে উক্ত সিডিগুলোতে কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা—সেগুলোতে ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ বা তৎকালীন সংবেদনশীল কোনো বিষয়ের নথিপত্র বা ডকুমেন্টারি থাকতে পারে। এই সিডির তথ্যের সাথেই সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপ্রত্যাশিত যোগাযোগের সূত্রপাত সম্প্রতি অন্য একটি মামলার তদন্ত চলাকালে কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের পেছনের সম্ভাব্য কিছু ক্লু ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস পান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তিনি জানান, উক্ত সাবেক সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে রোকেয়া প্রাচীর নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। প্রাপ্ত এসব নতুন তথ্য ও প্রমাণ দ্রুতই মামলার মূল তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রহস্যাবৃত হারিয়ে যাওয়া ডিভাইস হত্যাকাণ্ডের এতদিন পরও রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে সাগর-রুনীর বাসা থেকে গায়েব হয়ে যাওয়া দুটি ল্যাপটপ এবং সাগরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি। যেখানে রুনীর মোবাইল ও স্বর্ণালংকার অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে শুধুমাত্র সাগরের ফোন ও ল্যাপটপ দুটি গায়েব হওয়া ডিজিটাল তথ্যের দিকেই ইঙ্গিত করে।
পিবিআই এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততা বা সিডির বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সিডি সংগ্রহ, যোগাযোগের কারণ এবং হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসের বিষয়গুলো নিখুঁত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুনঃযাচাই করা হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























