
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগে (এফডিআই) নির্মিত হতে যাচ্ছে কনটেইনার টার্মিনাল। ‘লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল’ নামের এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান মায়ের্সক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এতে মোট ৭৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৯,৩৪৮ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করছে। প্রকল্পে দেশীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড।
প্রকল্পের মূল বিষয়াবলী
-
বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন: সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় ডিবিএফওটি (ডিজাইন, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা ও হস্তান্তর) মডেলে ৩ বছরের মধ্যে এর নির্মাণ শেষ হবে।
-
চালুর সময়সূচি: ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষে ২০৩০ সালে টার্মিনালটি চালু হবে।
-
পরিচালনা চুক্তি: এপিএম টার্মিনালস একটানা ৩০ বছর এটি পরিচালনা করবে। চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে মেয়DOUT আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকছে।
-
অবস্থান ও জমি: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯ কিলোমিটার ভাটিতে গুপ্তা বাঁকের আগে ৪৯.১৫ একর জমির ওপর এই গ্রিনফিল্ড প্রকল্প গড়ে উঠছে।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও সক্ষমতা
-
জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা: বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল টার্মিনালগুলোতে সর্বোচ্চ ৯.৫ মিটার ড্রাফট ও ২,৮০০ টিইইউএস (একক) ক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারে। লালদিয়ায় ১০.৫ মিটার ড্রাফট ও ৬,০০০ টিইইউএস ক্ষমতাসম্পন্ন বড় জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে।
-
জেটি ও যন্ত্রপাতি: ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটিতে একই সঙ্গে ৩টি ছোট অথবা ২টি বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে ৭টি আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ প্রায় ৮০ ধরনের পরিবেশবান্ধব (বৈদ্যুতিক) যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হবে।
-
কনটেইনার হ্যান্ডলিং: বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ৪টি টার্মিনালের যৌথ সক্ষমতা ৩৫ লাখ একক কনটেইনার। লালদিয়া চালু হলে বার্ষিক আরও ৮ থেকে ৯ লাখ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা মোট সক্ষমতা ৪৪ লাখ এককে উন্নীত করবে।
জমি ও কাঠামোগত বিন্যাস (৪৯.১৫ একর)
চট্টগ্রাম বন্দরের আর্থিক লাভ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে এই প্রকল্পে সরাসরি কোনো অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। উল্টো বন্দর পরিচালনামূলক বিভিন্ন ফি ও মাসুল থেকে রাজস্ব আয় করবে: ১. এককালীন ফি: টার্মিনাল চালুর আগেই বন্দর পাবে ২৫০ কোটি টাকা। ২. প্রতি কনটেইনার ফি: প্রথম ৮ লাখ একক কনটেইনার পর্যন্ত প্রতিটির জন্য ২১ ডলার এবং ৮ লাখের ওপর থেকে ৯ লাখ পর্যন্ত প্রতিটি কনটেইনারের জন্য ২৩ ডলার করে রাজস্ব পাবে চট্টগ্রাম বন্দর।
অর্থনীতি ও চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর প্রভাব
লালদিয়া টার্মিনালটি মোট ৫টি টার্মিনালের মধ্যে বন্দর ব্যবস্থার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ‘গুপ্তা বাঁক’-এর আগে হওয়ায় রাতেও সহজে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যমাত্রায় চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক লজিস্টিক হাবে রূপান্তর করতে এই টার্মিনাল বড় ভূমিকা রাখবে। চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ এই মেগা বিদেশি বিনিয়োগকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























