
লালমনিরহাটে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় সুজন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত সুজন লালমনিরহাট সদর উপজেলার তালুক খুটামারা এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার পটভূমি ও মামলার বিবরণ: মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালে। ভুক্তভোগী শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে আত্মীয়ের বাসা থেকে ফেরার পথে লালমনিরহাট আদালত প্রাঙ্গণের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। সে সময় সুজন শিশুটিকে এলাকা ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে ফুসলিয়ে কাছেই এয়ারপোর্ট এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে পাশবিক নির্যাতন চালায় সে।
শিশুটির কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সুজন দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোর্ট চত্বরের মতো একটি জায়গা থেকে শিশুকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানোর ঘটনাটি অত্যন্ত নির্মম ও চাঞ্চল্যকর ছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























