
আন্তর্জাতিক দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রবেশপত্র ও দর্শনের টিকিট বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতর থেকে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর কলকাতার দুর্গাপুজোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংস্থা। এই সংস্থার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ ওঠে, এই সাংস্কৃতিক সংস্থার ব্যানারে কলকাতার ২৪টি দুর্গাপুজো মণ্ডপে বিশেষ দর্শনের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭৪৯ টাকা থেকে ৫ হাজার ৪৯৯ টাকা মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার মূল প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার নাম ও লোগো ব্যবহারের আদৌ কোনো আইনি অনুমোদন ছিল কি না এবং এই টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ঠিক কত টাকা তোলা হয়েছিল, তার কোনো সঠিক হিসাব মেলেনি। বউবাজার থানায় এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী দল।
গ্রেফতারির আশঙ্কা এড়াতে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। তবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও কোনো অন্তর্বর্তীকালীন বা তাৎক্ষণিক সুরক্ষা পাননি তিনি। আগামী ২ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও, তার আগেই পুলিশের জালে আটকা পড়লেন তিনি।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে যান ইন্দ্রনীল সেন। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে জেরা করেন তদন্তকারীরা। এরপর দফতর থেকে বাইরে বের হকেই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা তাকে গ্রেপ্তার করেন।
এই হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যৌথভাবে এই দুর্নীতির আর্থিক লেনদেন ও গতিপথ খতিয়ে দেখছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























