
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় এক প্রবাসীর পরিবারের কাছে মুঠোফোনে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে (২৮) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাব্বির হোসেন বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অন্যতম প্রধান সহযোগী। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করে আসছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন সাব্বির। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে মূলত তাঁর ওপরই চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব বর্তায়। সাজ্জাদ ও তাঁর আরেক সহযোগী বোরহান উদ্দিনের সরাসরি নির্দেশনায় কাজ করতেন সাব্বির।
তদন্তে জানা গেছে, সাব্বির সাধারণত প্রকাশ্যে সামনে আসতেন না। বড় সাজ্জাদের অন্য একটি দল টার্গেট করা ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করত। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সাব্বির মুঠোফোনে প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের কল দিয়ে চাঁদা দাবি করতেন এবং সময়সীমা বেঁধে দিতেন। দাবি না মানলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করা বা সশস্ত্র হামলার হুমকি দেওয়া হতো।
গত আগস্ট মাসে নগরের হামজারবাগের মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক প্রবাসীর ব্যবসায়ী ছেলে মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করে চাঁদা চান সাব্বির। সেই ফোনালাপে সাব্বিরকে বলতে শোনা যায়—“একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে?….একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।”
এমনকি প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবা হার্টের রোগী হওয়ায় তাঁকে বাদ দিয়ে ছেলের ফোনে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল, দাবি না মেটালে পরিবারের যেকোনো সদস্যের ওপর হামলা চালানো হবে। এই হুমকির কিছুদিন পরেই ওই প্রবাসীর বাসার ফটকে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে।
গত ২০ জুন চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র হাতে সাব্বিরের মহড়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৩৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাঁকে প্রকাশ্য সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ছুড়তে এবং পিস্তল উঁচিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সাব্বিরের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। তবে অনেকেই ভয়ে আগে মামলা করতে সাহস পাননি। অবশেষে দীর্ঘ আত্মগোপনে থাকার পর নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হলো।
অনলাইন ডেস্ক 
























