
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী কর কমিশনার (বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ৮ বছরের জন্য তাঁর পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (কর-১ শাখা) থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ঘুষ গ্রহণ ও নথিপত্র হস্তান্তরের অভিযোগ
কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৩-এ কর্মরত থাকাকালে করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের (টিআইএন: ৪৮৩৩৮৪২২৩৯১৯) মূল কর নথি পরিবর্তন ও নতুন রেকর্ড সংযোজনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট করদাতার আইনজীবী মো. ওবায়দুল হক সরকার ও তাঁর সহকারী সোহেলের কাছ থেকে মিতু নগদ ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি পুরোনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট ও ট্রাইব্যুনালের আদেশসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর নথিপত্র তাঁদের হাতে তুলে দেন।
ঘোষিত অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নং- ০১/২০১৬) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ফলে তাঁকে লঘুদণ্ড হিসেবে পদোন্নতি স্থগিতের এই শাস্তি প্রদান করা হয়।
প্রেক্ষাপট ও অতীত ঘটনা
এসএ গ্রুপের কর্ণধার সালাহ উদ্দিন আহমেদের প্রায় ২৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার কর ফাঁকির প্রচেষ্টায় ১ কোটি টাকার ঘুষ চুক্তি হয়, যার প্রথম কিস্তি হিসেবে ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এনবিআর থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়, যা সেসময় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত নতুন এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল হয়ে শাস্তিমূলক মেয়াদ গণনা শুরু হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 





















