
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে কাজী আব্দুর রহমানের নিয়োগ নিয়ে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগের নির্ধারিত মানদণ্ড ও তাঁর শিক্ষাজীবনের ফলাফল নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে খবর প্রকাশের পর আলোচনা শুরু হয়।
একাত্তর টেলিভিশনের ‘একাত্তর বিজনেস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৯৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় কাজী আব্দুর রহমান তৃতীয় শ্রেণি (থার্ড ক্লাস) পান। প্রতিবেদনে তাঁর এই ফলাফলের নথিপত্রও তুলে ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত কতটুকু মানা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তবে ব্যাংকিং খাতে কাজী আব্দুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানা যায়। তিনি ১৯৯৮ সালে রূপালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। রাকাব-এর এমডি হওয়ার আগে তিনি জনতা ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গত ৩ সেপ্টেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনের (নম্বর: ৫৩.০০.০০০০.০০০.৩১২.১২.০০০১.২৬-৩৮১) মাধ্যমে তাঁকে রাকাবের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্নাতক পর্যায়ের ফলাফলের পাশাপাশি পরবর্তীতে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতকোত্তর এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
বর্তমানে এই নিয়োগের প্রক্রিয়া ও সরকারি নীতিমালার প্রয়োগ নিয়ে নানা কথা উঠলেও মূল বিষয়টি পরিষ্কার হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী পর্যালোচনার মাধ্যমে। সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি কাজী আব্দুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
অনলাইন ডেস্ক 





















