Dhaka ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

কুয়াকাটা সৈকতের অস্তিত্ব সংকট: জরুরি সাময়িক সংস্কারে মিলছে না স্থায়িত্ব, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার দাবি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৮:১৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭২ বার

প্রকৃতির রুদ্ররূপ আর সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোপে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা। বর্ষা ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুমে প্রতিনিয়ত সৈকত ক্ষয়ে সংকুচিত হচ্ছে এর প্রস্থ। ভেঙে পড়ছে উপকূলীয় বনাঞ্চল, ঘরবাড়ি এবং একাধিক পর্যটন অবকাঠামো।

ভাঙন সামলাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিলেও স্থানীয়দের মতে, তা কেবলই সাময়িক সমাধান। অপরিকল্পিতভাবে জিও ব্যাগের ব্যবহারে উল্টো সৈকতের নান্দনিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি—শুধুমাত্র সাময়িক সংস্কার নয়, সমুদ্রের প্রবল ঢেউ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি সুদূরপ্রসারী ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

প্রকৃতির রূপ ও ভাঙনের বাস্তবচিত্র

  • সংকুচিত প্রস্থ: ১৯৯৮ সালে সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষিত কুয়াকাটা সৈকত দৈর্ঘ্যে ১৮ কিমি থেকে বেড়ে রামনাবাদ ও তিন নদীর মোহনা পর্যন্ত ২৯ কিমিতে পৌঁছালেও ক্রমাগত বালুক্ষয়ে এর প্রস্থ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

  • সাগরের গ্রাস: গত ৪০-৫০ বছরে সমুদ্র প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার লোকালয়ের দিকে এগিয়ে এসেছে। বিগত এক দশকে নারিকেলবাগান, এলজিইডির ডাকবাংলো, ডিসি পার্কের অংশ, জাউবাগান, ভূমি অফিসের গেস্টহাউসসহ বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি সাগরে তলিয়ে গেছে।

  • হুমকিতে বনাঞ্চল: পরিবেশকর্মীদের মতে, সৈকতের ম্যানগ্রোভ ও নন-ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশই ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।

পর্যটক ও অংশীদারদের ক্ষোভ

ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে দিন দিন হতাশা বাড়ছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা সৈকতের বর্তমান অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। পর্যটনকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা জানান, গত প্রায় ২০ বছর ধরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কথা বলা হলেও বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুয়াকাটার পর্যটন খাত চরম হুমকির মুখে পড়বে।

পাউবোর বক্তব্য

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (কলাপাড়া) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সুরক্ষার জন্য ২০২৪ সালে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে জিও টিউব দিয়ে ভাঙন রোদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু