
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণির সাধারণ কর্মচারী হয়েও রূপকথার মতো সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন আবজাল হোসেন। নিজের বেতন ছিল মাসে মাত্র ৩০ হাজার টাকা, অথচ চড়তেন নিজস্ব বিলাসবহুল গাড়িতে। সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল ও তার স্ত্রী (সাবেক স্টেনোগ্রাফার) রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে এই বহুল আলোচিত ‘স্বাস্থ্য মাফিয়া’ কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকলেও তার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো আটকে আছে তদন্তের ধীরগতিতে।
মামলার অগ্রগতি ও আইনি অবস্থা
-
মামলা ও তদন্ত: ২০১৯ সালের ২৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে এই দম্পতির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে একটিতে ২৬৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং অপরটিতে ২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পাচারের কথা উল্লেখ করা হয়।
-
বর্তমান অবস্থা: দুদকের উপপরিচালক মো. সাহিদুর রহমান জানান, আবজালের বিরুদ্ধে থাকা তিনটির মধ্যে একটি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, তবে বাকি দুটি মামলার তদন্ত তিন বছর পার হলেও শেষ করা যায়নি।
-
জামিনের চেষ্টা: সম্প্রতি আবজালের আইনজীবী হাইকোর্টে তার জামিনের আবেদন জমা দিয়েছেন, যার ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
কারাগারে দিনযাপন সাজাপ্ত আসামি না হওয়ায় কারাগারে তাকে কোনো ধরনের কাজ করতে হচ্ছে না। কারাগার সূত্র জানায়, সেলে গল্পগুজব ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেই সময় কাটে তার। নিয়মিত মুঠোফোনে পরিবার ও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং স্বজনরা ক্যান্টিনে টাকা জমা দেওয়ায় কারাগারেই বেশ আরাম-আয়েশে ‘রাজার হালে’ দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
সম্পদের পাহাড় ও নেপথ্যের গল্প
-
সাম্রাজ্য: ঢাকার উত্তরায় ৫টি বাড়িসহ (যার মধ্যে ১৩ ও ১৬ নম্বর সেক্টরে বিলাসবহুল ভবন রয়েছে) দেশজুড়ে অন্তত ২৪টি প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে এই দম্পতির।
-
বিদেশি সম্পত্তি ও পলাতক স্ত্রী: অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও তাদের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। সূত্রমতে, তার স্ত্রী রুবিনা খানম বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতেই পালিয়ে আছেন।
-
উত্থান: ১৯৯২ সালে এইচএসসি পাস করে ১৯৯৫ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগ দেন ফরিদপুরের সন্তান আবজাল। পরবর্তীতে স্ত্রী রুবিনা খানমের ‘রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ব্যবসা পরিচালনা করে তারা এই বিপুল অংকের অবৈধ সম্পদের মালিক হন।
অনলাইন ডেস্ক 





















