Dhaka ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

৮১ লাখ টাকার জেট ফুয়েল চুরি: সাময়িক বরখাস্তের পর স্বপদে ফিরতে কর্মকর্তা সাইদুল হকের রিট

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৪ বার

দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে গত ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা অ্যাভিয়েশন ডিপোর (কেএডি) উদ্দেশে ৭২ হাজার ১৩২ লিটার জেট ফুয়েল নিয়ে চারটি ট্যাংক লরি রওনা হয়। প্রায় ৮১ লাখ টাকা মূল্যের এই জ্বালানি কেএডিতে না নিয়ে পথেই চুরি করে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। তদন্তে চুরির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর পদ্মা অয়েলের কেএডি ইনচার্জ ও সাবেক ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কয়েকজনকে বদলি করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদুল হকই ছিলেন তেল চুরির মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি তদন্ত কমিটিকে বিভ্রান্ত করতে ট্যাংক লরি কেএডিতে প্রবেশ করেছে বলে মিথ্যা তথ্য দেন। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে লরিগুলোর প্রবেশ না করার প্রমাণ মেলে। চুরির ঘটনা ঢাকতে সাইদুল হক গেট এন্ট্রি রেজিস্টার জালিয়াতির নির্দেশও দিয়েছিলেন।

বরখাস্তের পর গত ৮ জুন পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান তাকে চূড়ান্ত শাস্তির কেন দেওয়া হবে না— তা জানতে চেয়ে ১০ দিনের কারণ দর্শানোর নোটিস দেন। তবে গত ১৬ জুন সাইদুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তদন্ত কমিটিকে ‘কথিত’ আখ্যা দিয়ে প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর স্বপদে ফিরতে গত ২৬ জুলাই তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন এবং বরখাস্ত-বদলি আদেশ স্থগিতের দাবি জানান।

বর্তমানে চট্টগ্রামের কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা সাইদুল হকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, বরখাস্ত থাকা সত্ত্বেও তাকে উপ-মহাব্যবস্থাপকের কক্ষ ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ২০১৯ সালেও ভুয়া ‘স্যালারি সার্টিফিকেট’ তৈরির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

সাইদুল হক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন:

“ঘটনার সময় আমি অফিসে ছিলাম না। দায়িত্বরত দুজন কর্মকর্তা আমাকে বিশ্বাস ঘাতকতা করে ফাঁসিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের মতো লঘু ব্যবস্থার কারণেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে বারবার এ ধরনের চুরির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু