
ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’–কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তাঁর দেশে ফেরা ও নিরাপত্তার নানা দিক তুলে ধরেছেন। নিজ ভূখণ্ডে প্রত্যাবর্তন নিয়ে বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন জানিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নিজের দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় তিনি কাউকে কোনো ধরনের ঝুঁকিতে বা বিপদে ফেলতে চান না।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার মতো ইতিবাচক বা অনুকূল পরিবেশ বর্তমানে বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। তা সত্ত্বেও, নিজ দেশে ফেরার আইনগত ও স্বাভাবিক অধিকার কেন থাকবে না—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিজের অতীত রাজনীতি ও পারিবারিক অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ব্যক্ত করেন যে, দেশে ফেরার সুযোগ না পাওয়া তাঁর পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।
দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা আশঙ্কার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে পৌঁছালে বা বিমানবন্দরেই তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, জনগণের জন্য কাজ করতে গেলে ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয়; তবে বেঁচে থাকা সাপেক্ষেই দেশের মানুষের সেবা সম্ভব।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে বা কোনো আইনি জটিলতায় দল পরিচালনার জন্য গঠনতন্ত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারিত রয়েছে। পদমর্যাদা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ সেলিম এবং ক্রমান্বয়ে সাধারণ সম্পাদক ও যুগপৎ অন্যান্য পদের নেতৃত্ব দায়িত্ব বুঝে নেবেন। ফলে নেতৃত্বের জন্য নতুন করে পৃথক কোনো ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
বিএনপি সরকারের তাঁকে ফেরত চাওয়ার তাগিদ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ৫০০টির বেশি হত্যা মামলা সহ ৬০০টির বেশি মামলা সাজানো হয়েছে। বিএনপি কেন তাঁকে নিয়ে উদ্বিগ্ন—সেই প্রশ্নের উত্তর বর্তমান সরকারকেই দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























