
চট্টগ্রাম নগরীর আমবাগান এলাকায় সরকারি জায়গা ও কোয়ার্টার ঘিরে বেপরোয়া দখল-বাণিজ্য, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়ার মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর শুধু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দিকেই নয়, উঠে এসেছে রেলওয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামও। স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি সম্পত্তি যেন ‘যার যত ক্ষমতা, তার তত দখল’ নীতিতে পরিণত হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, রেলওয়ের পরিবহন সহকারী কর্মকর্তা মো. মাহাতাব উদ্দিন এবং পাহাড়তলী বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে সরকারি বাসা বরাদ্দের নিয়ম লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
-
পরিবহন সহকারী মো. মাহাতাব উদ্দিন: নিজের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি বাসাটি ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি সীমানার ভেতরে অনুমতি ছাড়া ১২টি অতিরিক্ত টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ। এগুলো থেকে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকা (ঘরপ্রতি ৩,০০০–৩,৮০০ টাকা) আয় করছেন তিনি।
-
সহকারী শিক্ষিকা নিগার সুলতানা: নিজের বরাদ্দকৃত বাসা ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত স্থাপনা বানিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধেও।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন সহকারী মো. মাহাতাব উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার না করে উল্টো দাবি করেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আমি একা নই, আরও অনেকেই জড়িত। অন্যেরা যেভাবে করছেন, আমিও সেভাবেই করছি।”
অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষিকা নিগার সুলতানা অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই অনিয়মের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন বলে বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলওয়ের আইডব্লিউ (I.W.) কর্মকর্তা মো. সোহেল জানান, তাঁর আওতাধীন মোট ৩,৫১১টি কোয়ার্টারের মধ্যে ২,৮৫৯টি স্টাফদের জন্য বরাদ্দ এবং প্রায় ৪০০টি খালি রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে বিপুল পরিমাণ জায়গা ও কোয়ার্টার অবৈধ দখলে রয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাসা ও দোকানপাট দখলের অভিযোগ পাওয়ার পর বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২-এর কার্যালয় থেকে নিয়মিত নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
যাদের ওপর সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দায়িত্ব ন্যস্ত, তাদের বিরুদ্ধে যদি সরকারি ঘর ভাড়া দিয়ে বাণিজ্য ও জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠে, তবে রেলওয়ে সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেস্ক 





















