
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব রক্ষক আবুল বাশার শেখের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জাল নিয়োগপত্র থেকে শুরু করে ভুয়া বিল-ভাউচার এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক বনে গেছেন এই কর্মচারী।
অভিযোগে জানা যায়, প্রকল্পের বিভিন্ন কেনাকাটা ও আনুষাঙ্গিক খাতের বরাদ্দে চরম অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন আবুল বাশার।
-
১০% কমিশন বাণিজ্য: আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ফটোকপিয়ার ক্রয় এবং গাড়ি মেরামতসহ প্রকল্পের সকল কেনাকাটায় বাধ্যতামূলক ১০ শতাংশ কমিশন দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
-
ভুয়া ভাউচার ও অতিরিক্ত মূল্য: বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে এবং চাহিদার তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ পণ্য কেনাকাটার ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
প্রকল্পের আউটসোর্সিং নিয়োগকে কেন্দ্র করেও গড়ে তুলেছেন বিশাল এক প্রতারণাচক্র। প্রায় ৩০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে মোট দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাকতালীয়ভাবে এর মধ্যে ৩–৪ জনের চাকরি হলেও বাকিদের টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
বাশার শেখের চাকরিতে যোগদান নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক।
-
নথি অনুসারে, ১৬ মে ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এলজিইডিতে জিওবি খাতে কোনো সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা প্রক্রিয়া ছিল না। অথচ বাশার শেখের নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০০২ সালে।
-
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০০১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে তিনটি পদে মোট ৫৭৬ জনকে (যার মধ্যে ১৩০ জন হিসাব রক্ষক) অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পেছনে এলজিইডির তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী প্রয়াত কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের স্বাক্ষর ‘কাট-পেস্ট’ করে জাল নিয়োগপত্র তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
-
প্রকৃতপক্ষে বাশার শেখের কাছে বা এলজিইডির নিজস্ব নথিতে তার কোনো মূল (অরিজিনাল) নিয়োগপত্র সংরক্ষিত নেই।
জাতীয় পরিচয়পত্র (নং- ১৪৮২৬৮৬৪৮০) সূত্রে জানা যায়, মাসিক মাত্র ২৮,০০০ টাকা সর্বসাকুল্যে বেতন পেয়েও তিনি রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন:
-
মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়া (৪০৬/৩): ১৫০০ বর্গফুটের অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা, এবং এর ভেতরের আসবাব ও ফিটিংসের মূল্যও কোটি টাকার ওপরে)।
-
সেনপাড়া পর্বতা (১৩ নং ওয়ার্ড): ১০ তলা ভবনের ৭/এ নম্বরে ১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট।
-
মিরপুর (১৪ নং ওয়ার্ড): ৮ তলা ভবনে ৭৫০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাট।
-
পৈতৃক ভিটা (বটিয়াঘাটা, খুলনা): নিজ এলাকায় কিনেছেন প্রায় ৯২ শতক জমি।
-
ব্যাংক আমানত: বিভিন্ন ব্যাংকে তার নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর (FDR)।
চাকরি জীবনের শুরু থেকেই দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে আলাদিনের চেরাগের মতো অঢেল সম্পদ উপার্জনকারী এই হিসাব রক্ষকের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
অনলাইন ডেস্ক 





















