
সবকটি ধাপ পার হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন জীবনের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। কিন্তু ১০ মাসের দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে নিজের নাম না দেখে ভেঙে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমদ তাহমিদ। তার অভিযোগ, বাবা স্থানীয় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার খেসারত দিতে গিয়েই পুলিশ ভেরিফিকেশনে তিনি বাদ পড়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর তালিকায় নিজের নাম না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেন তাহমিদ। তিনি ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ফেসবুক পোস্টে তাহমিদ জানান, গত বছরের জুন থেকে ব্যাংক ও বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। ব্যাংক ও ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হলেও এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ৪৯তম বিসিএসের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন। সব ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে প্রথমবারের মতো ভাইবা দিয়েই চূড়ান্ত ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
সুপারিশ পাওয়ার পর দীর্ঘ ১০ মাস ধরে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ঝুলন্ত ছিল। বিসিএসে ক্যাডার হিসেবে নাম আসায় আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে পরবর্তী সময়ে আর কোনো ব্যাংক বা সরকারি চাকরির পরীক্ষা কিংবা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেননি তিনি।
গেজেট থেকে বাদ পড়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তাহমিদ বলেন, “আমার বাবা সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা জামায়াতের আমির। ভেরিফিকেশনের সময় স্বজনদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আমি সততার সাথেই জানাই যে আমার বাবা জামায়াতের রাজনীতি করেন। কেবল পারিবারিক এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ আমার ব্যক্তিগত নথিপত্রে কোনো ত্রুটি ছিল না।”
বর্তমানে ঢাকার এক কক্ষের একটি ছোট বাসায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তাহমিদের দিন কাটছে। আনন্দ উদযাপনের আশায় অসুস্থতা সত্ত্বেও স্ত্রী গ্রামে না গিয়ে স্বামীর পাশে থেকেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত গেজেটে নাম না আসায় আনন্দের সেই পরিবারটিতে এখন শুধুই চরম হতাশা আর কান্নার আবহ।
অনলাইন ডেস্ক 























