
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশারকে কেন্দ্র করে উঠেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দীর্ঘ এক দশক শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা আওয়ামী শাসনামলে গড়ে তুলেছেন বিশাল অঘোষিত সম্পত্তি। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অপকর্ম ঢাকতে দ্রুত ‘রং বদলে’ ফেলেন তিনি। বর্তমানে তিনি ভোলা গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত রয়েছেন।
বিশাল সম্পদের পাহাড়: অনুসন্ধানে জানা যায়, পদে উপসহকারী প্রকৌশলী হলেও তার সম্পদের পরিমাণ চোখ কপালে তোলার মতো। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং সুদাসদনের দায়িত্বে থাকার সুবাদে ক্ষমতা প্রদর্শন করে ঢাকার জুরাইনে একটি পাঁচতলা ভবন, নিউ মার্কেটে স্বর্ণের দোকান, বরিশাল শহরে আলিশান বাড়ি, বাকেরগঞ্জে ইটভাটা এবং কয়েকশ’ বিঘা জমিসহ নামে-বেনামে প্রায় অর্ধশতাধিক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
বাকেরগঞ্জ ৭ নম্বর কবাই ইউনিয়নের আওয়ামী রাজনীতির সাথে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং দলীয় তহবিল সংগ্রহে অর্থ জোগান দিতেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপূর্তের ই/এম ২ নম্বর বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম তার অনুপস্থিতির কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) দিলে, বাশার লিখিত জবাবে স্বীকার করেন যে—তিনি সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ মার্কা প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুল হাফিজ মল্লিকের নির্বাচনী প্রচারণা ও বিজয় র্যালিতে অংশ নিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তার নিজস্ব স্বাক্ষর রয়েছে।
গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে ২০২৫ সালের শুরু থেকেই তিনি বিএনপি নেতাদের সাথে ছবি ও সেলফি তুলে নিজেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী প্রমাণের চেষ্টা চালান। জানা গেছে, অর্জিত অবৈধ অর্থের বিনিময়ে নিজের ইমেজ পুনর্গঠনের চেষ্টা করলেও তার শেষ রক্ষা হচ্ছে না।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে। ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল দুদক থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরবরে চিঠি পাঠিয়ে বাশারের এনআইডি, পাসপোর্ট, টিআইএন, চাকরির বিবরণীসহ ‘ঝিগাতলা অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণ প্রকল্প’-এর বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। পরবর্তীকালে গণপূর্তের সংস্থাপন শাখা এসব তথ্য দুদকে সরবরাহ করে।
জমি দখলের অভিযোগ: এদিকে ২০২৫ সালের মার্চে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী কুদ্দুস মিয়া। তিনি জানান, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাশার তার ও তার বোনের ৭০ শতাংশ জমিসহ স্থানীয়দের অনেক জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন।
এসব বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অনলাইন ডেস্ক 





















