
ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকায় নকশা ও নির্মাণবিধি তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠছে একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন। অগ্নিনিরাপত্তা ও নগর পরিকল্পনাকে চরম হুমকিতে ফেলা এই অবৈধ প্রক্রিয়ার পেছনে এবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর রাজউকের জোন ৭/১-এর ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের দিকে।
স্থানীয় ভবন মালিক ও ডেভেলপারদের দাবি, এলাকাটিতে নির্মাণকাজে ছোটখাটো ত্রুটি কিংবা অনিয়ম পেলেই রাজউকের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় নোটিশ। তবে এই নোটিশের মূল উদ্দেশ্য ভবন উচ্ছেদ বা কাজ বন্ধ করা নয়, বরং একে হাতিয়ার বানিয়ে ‘পকেট ভারী করা’। উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে মধ্যস্থতাকারী অথবা সরাসরি অর্থ আদায়ের পর আবারও নির্বিঘ্নে অবৈধ কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গেন্ডারিয়া সতিশ সরকার রোড (৩৩/১৩/এ): কোনো বৈধ নকশা অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ। এছাড়া নির্ধারিত খালি জায়গা রাখা এবং অনুমোদিত নকশা টাঙিয়ে রাখার আইনি বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি।
দোলাইখাল (৯০ নাসির উদ্দিন সরদার লেন): রাজউকের বিধিমালা ও অনুমোদিত নকশার সম্পূর্ণ ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠে এসেছে।
সতিশ সরকার রোড (৩০/কে – হাজী আব্দুল কাদের মোল্লা টাওয়ার) ও ডিস্টিলারি রোড (৮৮/এ/২): অত্যন্ত সরু রাস্তার পাশে কোনো অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে।
অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: ৪৬ রজনী চৌধুরী রোড, ৫০ এস কে দাস রোড, ফরাসগঞ্জ, দ্বীননাথ সেন রোড, মীরহাজীবাগ এবং নয়াবাজারের ৩০ জিন্দাবাদ প্রথম লেনের ভবনগুলোতেও রাস্তা ও নকশা সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার ভবনে ত্রুটির অজুহাত তুলে উচ্ছেদের হুমকিতে তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজউক পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। অবৈধ নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সরাসরি অফিসে এসে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে ওই এলাকার দায়িত্ব পালন করছেন না।
সরু গলি আর ঘনবসতির পুরান ঢাকায় এভাবে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূমিকম্পে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের দাবি—নথিপত্র যাচাই এবং সরেজমিন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আল নাঈম মুরাদসহ জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অনলাইন ডেস্ক 





















