
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, নকশা অনুমোদনে ‘ম্যানেজমেন্ট ফি’ নামে ঘুষ গ্রহণ, পরিদর্শকদের নিয়ে সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিধি লঙ্ঘন করে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগে জানা যায়, মিরপুর, গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ রাজউকের জোন-৩ ও জোন-৪-এর অধীনস্থ এলাকাগুলোতে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অনৈতিক অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে কাজ পরিদর্শন পর্যন্ত পরিচালকের অনুমোদন ও ‘ম্যানেজমেন্ট ফি’ ছাড়া ফাইল এগোয় না বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
এছাড়া ইমারত পরিদর্শকদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেই নানা ত্রুটি ধরে মালিকদের জোনাল অফিসে যোগাযোগ করতে বাধ্য করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে কাজ বন্ধ, কারণ দর্শানো নোটিশ ও উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব বিষয় ‘মীমাংসা’ করার অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজউকের কার্যালয়ে হাতুড়ি দিয়ে এক সংবাদকর্মীর ওপর হামলা চালান ইমারত পরিদর্শক মো. সোলাইমান হোসেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী থাকার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তাছাড়া, জোন-৩-এর প্রধান ইমারত পরিদর্শক হিসেবে আব্দুর রহিম নামের এক কর্মচারীর দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। একই স্থানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনে সরকারি বদলি নীতিমালা না মেনে তদবিরের মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব ধরে রাখার অভিযোগও রয়েছে পরিচালক জাকারিয়ার বিরুদ্ধে।
পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তার ও পরিবারের সম্পদের বিশাল অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নামে-বেনামে রয়েছে:
পূর্বাচলে প্রায় ২০ কাঠা জমি।
রাজধানীর মালিবাগে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
টাঙ্গাইলে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।
১. দুদকের সম্পদ পরীক্ষা: সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও আয়ের উৎস খতিয়ে দেখা।
২. অনুমোদন ফাইল অডিট: জোন-৩ ও জোন-৪-এ দায়িত্ব পালনকালে অনুমোদিত সব নকশার ফাইল পুনঃপরীক্ষা।
৩. উচ্ছেদ ও নোটিশ পর্যালোচনা: ইমারত ভাঙা, নোটিশ দেওয়া ও অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বচ্ছতা যাচাই।
৪. পরিদর্শক কার্যক্রম তদন্ত: ইমারত পরিদর্শকদের অনৈতিক লেনদেন ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত।
৫. সংবাদকর্মীর ওপর হামলার সঠিক বিচার: ৩০ জানুয়ারির হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ও নথি পর্যালোচনা করা।
৬. যোগ্যতা যাচাই: গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের শিক্ষাগত ও পেশাগত মানদণ্ড পরীক্ষা।
৭. আর্থিক কারচুপি চিহ্নিতকরণ: ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধান।
৮. ডিজিটালাইজেশন: মানবিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে রাজউকের অনুমোদন ও পরিদর্শন ব্যবস্থা দ্রুত ডিজিটাল করা।
পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা উন্মোচনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নগর বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীরা।
অনলাইন ডেস্ক 





















