Dhaka ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
কোটি টাকার সম্পত্তি ও বিদেশে অর্থ পাচার: দুদকের অনুসন্ধানের মুখে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ফ্যাসিস্ট দোসর আসিব আহসান বহাল তবিয়তে আমানত আত্মসাৎ ও জালিয়াতি প্রমাণিত: ২৪ লাখ টাকা তসরুপে অভিযুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থাপকের লঘুদণ্ড! আর্টিকেল স্ট্রাকচারকে ঘিরে শত শত বিঘা জমি দখলের অভিযোগ মালুম সিটির বালু ভরাটের অভিযোগে দিশেহারা কৃষক, পৈতৃক জমি হারানোর শঙ্কা দেশ ছাড়েননি, ‘ব্রাজিলের স্বার্থেই’ যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ইসরাইল নির্বাচন: ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠনে কঠিন সমীকরণ আলোচিত সেই সাবেক লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ মিলল তুরাগ নদীতে জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু

রাজউকের জোন ৪/২: অথরাইজড অফিসার হাসানুর রেজা ও পরিদর্শক সোহাগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়, জিম্মি ভবন মালিকরা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০২:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩০ বার

নকশা অনুমোদন বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্যের আড়ালে চাঁদাবাজি, উচ্ছেদ হুমকি, মিটার ফেরত দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাত এবং গ্রাহক হয়রানি—রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন ৪/২ (আফতাবনগর, বাড্ডা, মহাখালী, গুলশান ও বনানী একাংশ) যেন এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এসব অপকর্মের মূলে রয়েছেন জোন ৪/২-এর অথরাইজড অফিসার হাসানুর রেজা। আর এসব কর্মকাণ্ডের মূল ‘হাতিয়ার’ বা বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করছেন বিতর্কিত ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিঞা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত এলাকার নির্মাণাধীন ও নবনির্মিত ভবনের মালিকরা বর্তমানে এই সিন্ডিকেটের কাছে সম্পূর্ণ জিম্মি। সূত্রের দাবি, কৌশল হিসেবে প্রথমে ভবনের ত্রুটি ধরে নোটিশ পাঠানো হয় অথবা উচ্ছেদের ভয় দেখানো হয়। এরপরই শুরু হয় মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি। যারা দাবি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করেন, তারা নিমেষেই হয়রানি থেকে রেহাই পান। কিন্তু যারা অর্থ দিতে ব্যর্থ হন, তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না।

এসব অবৈধ লেনদেন ও হয়রানির মূল বিশ্বস্ত সহযোগী ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিঞা। চাকরির শুরু থেকেই তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অথরাইজড অফিসার হাসানুর রেজাকে ‘সন্তুষ্ট’ করে গুলশান অ্যাভিনিউ ও প্রগতি সরণির পূর্ব পাশ, বাড্ডার আনন্দনগর, ভিআইপি প্রজেক্ট, আর্দশ নগর এবং আফতাবনগরে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন গড়ে তোলা হয়েছে, যা এখনও চলমান।

গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে আসা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টে জব্দ হওয়া বৈদ্যুতিক মিটার ফেরতের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। ঘুষ বা লেনদেনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় মিটারের ভাগ্য। রেজা ও সোহাগের চাহিদামতো অর্থ মিললে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাঠিয়ে সহজেই মিটার ফেরত দেওয়া হয়। অন্যথায় গ্রাহকদের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। ভবনের অবস্থান ভেদে মিটার প্রতি ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।

এছাড়া, দাপ্তরিক ক্ষেত্রেও হাসানুর রেজার বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং কৌশল অবলম্বন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অমান্য করার নানা অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে নকশা অনুমোদনে অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন, গ্রাহক হয়রানি এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

(এ সংক্রান্ত আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে বিস্তারিত থাকছে আগামী পর্বে…)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও বিদেশে অর্থ পাচার: দুদকের অনুসন্ধানের মুখে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী