
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় নীলফামারীর সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানকে (৬২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমিনুর রহমান লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং কচুয়া গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমিনুরের আইনজীবী মোরসালিন ইসলাম জানান, তাঁরা জামিনের আবেদন করলেও আদালত তাঁকে এ মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গোপন বৈঠক ও লিফলেট বিতরণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। নীলফামারী থানায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বরের এই মামলায় (নম্বর ১৪) সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ৮, ৯(১), ১০ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে বিদ্যালয় মাঠে অভিযান চালালে উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকজন পালিয়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫০টি লিফলেট সংবলিত একটি বান্ডিল, ৭টি লোহার রড ও ৬৮টি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে ওই গোপন বৈঠক চলছিল। উদ্ধারকৃত লিফলেটে দলীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের দিকনির্দেশনাও ছিল। মামলার প্রাথমিক তদন্তে আমিনুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খান।
অনলাইন ডেস্ক 























