Dhaka ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা: সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ওপেন সিক্রেট ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জমি কেনাবেচার রেজিস্ট্রি থেকে শুরু করে দলিলের নকল তোলা, দানপত্র, বণ্টনপত্র বা চুক্তিপত্র—সব কাজেই এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে অতিরিক্ত অর্থপ্রদান।

ঘুষের সুনির্দিষ্ট হার ও লেনদেনের কৌশল
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই কার্যালয়ে নামমাত্র বা নিয়মের সেবা পাওয়া একরকম অসম্ভব। প্রতি হাজারে গড়ে ৬ টাকা হারে ঘুস দিতে হয় এখানে। স্থানীয় দলিল লেখকদের মাধ্যমে সংগৃহীত এই অবৈধ টাকার একটি বড় অংশ অফিস পিয়ন থেকে শুরু করে জেলা রেজিস্ট্রার ও আইজিআর অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটেও যায়।

অফিস সহকারী বা কেরানি আলিমুল ইসলাম প্রতিদিনের এই অবৈধ লেনদেন তদারকি ও টাকা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে রাতের আঁধারে কার্যালয়ের ভেতরেই এসব অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা হয় বলে জানা গেছে।

সেবা নিতে যত অতিরিক্ত খরচ
সরকারি নির্ধারিত ফি ও কর পরিশোধের পরেও নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে এই চক্রের। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

ফটোকপি কাগজ থাকলে: ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়।

দাদা-দাদি বা নানা-নানির নামে পর্চা থাকলে: ১০ হাজার টাকা।

একই দাতার একাধিক বা হেবা দলিল: ৩ হাজার টাকা।

টিআইএন সনদ না থাকা বা পর্চায় বাবা-মায়ের নাম থাকলে: ৫ হাজার টাকা।

নামের পাশে ডাকনাম, বণ্টননামা বা বায়না দলিল থাকলে: ৫ হাজার টাকা।

এছাড়া কোনো দলিলে সামান্য জটিলতা দেখা দিলে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিশেষ চুক্তি ছাড়া ফাইল নড়ে না। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ‘দলিল পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে ঘুরতে হয় সেবাগ্রহীতাদের।

ইশারায় চলে স্বাক্ষর, নেপথ্যে বিতর্কিত পোস্টিং
অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক সরাসরি ঘুস গ্রহণ করেন না। অফিস সহকারী জাকির হোসেন ও কেরানি আলিমুল ইসলাম পে-অর্ডারের কাজ এবং ঘুস লেনদেন নিশ্চিত করার পর ইশারা বা সংকেত দিলেই কেবল তিনি দলিলে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীনও এই কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন মহলকে প্রভাবিত করে নিজের সুবিধাজনক স্থানে এই পোস্টিং বাগিয়ে নেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য কার্যালয়ে সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু