
ব্যবসা ও লাভজনক প্রকল্পের লোভ দেখিয়ে বন্ধু ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মমিনুল ইসলাম মন্ডল ওরফে ‘মইম সুমন’ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিভাগের সাবেক নেতা।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে বগুড়া শহরের প্রেসপট্টি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার সুমন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কিশামত দশনিয়া গ্রামের শাহাদাৎ হোসাইন মণ্ডলের ছেলে।
ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের দিকে বন্ধুদের নিয়ে ব্যবসার উদ্যোগ নেন সুমন। প্রথমে ‘বেঙ্গল শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠার পর একে একে ‘তেজারা এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লিমিটেড’ এবং ‘তেজারা প্রপার্টিজ’-এর মতো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানে বন্ধুদের পরিচালক পদে রেখে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেন।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে অভিনব এক প্রতারণার আশ্রয় নেন সুমন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে সাধারণ ব্র্যান্ডের ৪০-৫০টি সাধারণ টেলিভিশন কিনে সেগুলোতে ‘তেজারা টিভি’র লোগো ও নিজস্ব কার্টন ব্যবহার করতেন। চীন থেকে এসব টিভি আমদানি করা হচ্ছে—এমন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বন্ধুদের বিনিয়োগ বাড়াতে বাধ্য করেন। এভাবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
প্রায় এক বছর লোকদেখানো কার্যক্রম চালানোর পর হঠাৎ করেই লাপাত্তা হয়ে যান সুমন। পরবর্তীতে বগুড়ায় তার সন্ধান পেলে পাওনাদাররা টাকা ফেরত চান। সে সময় বগুড়া জেলা যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটনের সঙ্গে যোগসাজশ করে পাওনাদারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বন্ধুত্বের সম্পর্ক ও বিশ্বাসের কারণে অধিকাংশ ভুক্তভোগী নগদ টাকা দেওয়ায় তাদের কাছে পর্যাপ্ত লেনদেনের রসিদ বা কাগজ ছিল না। তবে এক ভুক্তভোগী সুমনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়েছিলেন। সেই ব্যাংক ভাউচারকে মূল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে সম্প্রতি বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সদর আমলি শাখায় একটি মামলা করেন ওমর ফারুক। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সমবায় ব্যবসাসহ নানা প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতারণার শিকার ঢাকার কবি ও প্রচ্ছদশিল্পী আফসার নিজাম জানান, সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সুমন তার কাছ থেকেও টাকা নিয়ে পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
সমন্বয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) বগুড়ার সাবেক পরিচালক নাজমুল আহসান সোহাগ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বিকল্প’-এর সাবেক পরিচালক নবার নাসিরসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরা জানান, সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে সুমনের এ ধরনের প্রতারণা মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাসে বড় আঘাত হেনেছে। তারা এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























