
বহুল আলোচিত দর্জি শ্রমিক বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও অন্যান্য আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সোমবার (১৯ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রায় ১৪ বছর আগে পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে রাজপথে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের কাছাকাছি এলাকায় দর্জি শ্রমিক বিশ্বজিৎকে। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ চলাকালে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছিল। বোমা বিস্ফোরণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টার সময় ছাত্রলীগ মিছিল থেকে বিশ্বজিৎকে ধাওয়া করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ে:
বিচারিক আদালতের আটটি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে দুটি বহাল রাখা হয় (রফিকুল ইসলাম শাকিল ও পলাতক রাজন তালুকদার)।
চারজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়।
দুইজনকে খালাস দেওয়া হয় (সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা)।
এছাড়া বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিদের মধ্যে আপিল করা দুইজনকে খালাস এবং বাকিদের সাজা বহাল রাখা হয়।
হাইকোর্টের রায়ে কিছু আসামির খালাস পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আপিল করে। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান (রুহুল কুদ্দুস কাজল) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশের মানুষের বিবেককে আলোড়িত করা এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অনলাইন ডেস্ক 

























