
বিনোদনের পরিচিত মুখ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম—যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত—তার সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। চাঁদা দাবি, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে তিনি এই আবেদন করেন।
তার আইনজীবী শান্তা সাকছিনা জানান, আদালত হিরো আলমের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ১৬ অক্টোবর এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন তিনি।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ:
মামলার আবেদনে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে হিরো আলমের সাবেক স্ত্রী মোসা. সাথী খাতুনকে (২২)। এ ছাড়া তার দুই সহযোগী আহসান হাবিব সেলিম (৩০) ও মো. মহিদুল ইসলামকেও (২৮) অভিযুক্ত করা হয়েছে।
চাঁদা দাবি ও হুমকি: আসামিরা হিরো আলমের কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অর্থ লেনদেন: অভিযোগে বলা হয়, সাথী খাতুন হিরো আলমের মিউজিক ভিডিওতে কাজের সুযোগ চাওয়ার পর সংসারের খরচ ও পোশাক কেনার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। গত ১৭ আগস্ট তাকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়, যা ব্যাংকে জমা রাখার কথা সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্বীকারও করেছিলেন।
ওমরাহ চলাকালীন চাপ: গত ২২ আগস্ট হিরো আলম ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার পর, শুটিং ও সাজসজ্জার খরচ দেখিয়ে সাথী আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
তালাক ও লাইভে হুমকি: গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাথীকে তালাক দেওয়ার পর অভিযুক্ত তিনজন মিলে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এমনকি গত ১২ অক্টোবর অভিযুক্তরা সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে হিরো আলমের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বিষপান করা এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এখন পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























