
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চাকুরীর সুবাদে বসবাসকারী এক নারীর পৈত্রিক বসতবাড়িতে ভবন নির্মাণের চুক্তি করে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শারীরিক নির্যাতন এবং সর্বশেষ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে আসামীর বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার চুরি ও প্রাণনাশের হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালত এবং বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (৩২) পেশাগত ও চাকুরীর সুবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উলচাপাড়া এলাকায় ওবায়দুল্লাহর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থেকে আসছেন। তার মূল বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার দক্ষিণ পাকুরিয়া এলাকায়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. আমিনুল ইসলাম (সুজন) (৪০) একই জেলার চুনারুঘাট বাজার এলাকার মো. মীর হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ঠিকাদার ও ব্রিকস ফিল্ডের ব্যবসায়ী। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে ভুক্তভোগী নারীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত পৈত্রিক বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম (সুজন) এর সাথে কথা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে নগদ ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা চুক্তি বাবদ আসামিকে প্রদান করেন ওই নারী। টাকা নেওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম (সুজন) কোনো নির্মাণ কাজ শুরু না করে টালবাহানা শুরু করেন। ভুক্তভোগী নারী চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু অথবা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত নানা বাহানায় তাকে ঘুরাতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আসামী বাদীর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। সেই কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আসামী কৌশলে বাদীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা ফেরত পাঠালেও বাকি ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পূর্বের মতোই টালবাহানা অব্যাহত রাখেন। মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন গত ৯ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে (বৃহস্পতিবার) বিকেল অনুমান ৩:০০ ঘটিকার সময় আসামী আমিনুল ইসলাম (সুজন) ভুক্তভোগীর ভাড়া বাসায় আসেন এবং চুক্তি ও পাওনা টাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এ সময় কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার পরনের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলেন। ভুক্তভোগীর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং মামলার সাক্ষী জসিম মিয়া ও হোসেন মিয়া দ্রুত এগিয়ে আসলে আসামী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যাওয়ার সময় তিনি ঘরে থাকা ৪ ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯,০০,০০০ টাকা) ও একটি ব্যাংকের চেক বই জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যান। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি থানা পুলিশ বা এলাকার কাউকে জানালে রাস্তাঘাটে সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন করা এবং একা পেলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়ে যান তিনি। এহেন লোমহর্ষক ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী প্রথমে স্থানীয় থানায় অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। পরবর্তীতে থানায় আশানুরূপ প্রতিকার না পেয়ে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হন।
তিনি পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৮০/৫০৬(২) ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩)-এর ৯(৪)(খ) ধারায় পৃথক অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেন। মামলায় উলচাপাড়া এলাকার স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, আসামির ভাই চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ হওয়ায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রভাবশালী ওই মহলের ভয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে অসহায় ওই নারী ন্যায়বিচার ও গণমাধ্যমের জোরালো সহযোগিতা পাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া 

























