
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ফায়ার লাইসেন্স বাণিজ্য, টেন্ডার জালিয়াতি, অকেজো সরকারি মালামাল বিক্রি এবং বদলি-পদায়নে সিন্ডিকেট গড়ার সুনির্দিষ্ট ১৩টি অভিযোগ পাওয়া গেলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও তিনি নানা উপায়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, গত মে-জুন ২০২৬ সময়ে সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাড়াহুড়ো করে ৪৫২টি ফায়ার লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক অনিয়ম হয়। সে সময় যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সাবেক ডিজির স্টাফ অফিসারকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে পোস্টিং বাগিয়ে নেন তিনি।
লাইসেন্স ও রেশনে দুর্নীতি: ফায়ার লাইসেন্স রি-অ্যাসেসমেন্ট অনুমোদন এবং ই-জিটি (e-GP) টেন্ডারের রেশনে নিম্নমানের ডাল চাক্তাই থেকে কিনে বিভিন্ন স্টেশনে সরবরাহের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ। প্রতিবাদ করলে কর্মকর্তাদের বদলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ।
স্বজনপ্রীতি ও জিম্মি সংস্কৃতি: নিজের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অতিরিক্ত দায়িত্বে বসিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ইন্সপেক্টরদের জিম্মি করে রাখা।
বিল প্রদানে কমিশন বাণিজ্য: ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিভাগের ১০৫টি ফায়ার স্টেশনের কারিগরি কারখানার গাড়ি ও পাম্প মেরামতের বকেয়া বিল আটকে রেখে নতুন বিল ছাড়ের বিপরীতে ১৫ শতাংশ অগ্রিম ঘুষ দাবির অভিযোগ।
রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও অবহেলা: কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর ‘টুপ টুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন রিসোর্ট প্রতিনিধিদের কাছে লাইসেন্সের কথা বলে রানারের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। যথাযথ পরামর্শ বা সহযোগিতা না দেওয়ায় এবং অবহেলার কারণে ওই অগ্নিকাণ্ডে ১০টি তাজা প্রাণহানি ঘটে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
কুমিল্লায় ক্ষমতার অপব্যবহার: কুমিল্লায় কর্মকালীন সময়ে সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এপিএসের সাথে যোগসাজশে মনোহরগঞ্জ নতুন ফায়ার স্টেশনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ফায়ার স্টেশন মসজিদ নির্মাণের জন্য অনুদান ও সামগ্রী আত্মসাৎ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ।
বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট: যেকোনো বদলির সুপারিশে স্বাক্ষর বা সুপারিশ করার জন্য নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক লেনদেন বাধ্যতামূলক করা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এডি মো. তৌফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে বারবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগটির সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাহাড়সমান এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নবাগত মহাপরিচালকের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
অনলাইন ডেস্ক 

























