
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে দলটি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে তাঁর নেতৃত্বে দলটি ইসিতে গিয়ে সুনির্দিষ্ট নয়টি অভিযোগ ও তিন দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি ও প্রমাণাদি জমা দেয়।
১. ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন মোড়ে রঙিন ও প্রতীক-সম্বলিত পোস্টার ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন।
২. হিন্দু ও সরকারি চাকরিজীবী ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি।
৩. নির্দিষ্ট সময়ের (দুপুর ২টা) আগে মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো।
৪. ইউনিয়নে ইউনিয়নে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে সরকারি চিকিৎসকদের ব্যবহার করে ভোটারদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া।
৫. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদে) সোফা সেট স্থাপন করে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো।
৬. ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ও ফেসবুকে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ।
৭. বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষকের মাধ্যমে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য।
৮. নারী কর্মীদের বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ না নেওয়ার হুমকি এবং জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা (যাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন)।
৯. বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের ব্যানার ও প্রচারসামগ্রী ছিঁড়ে ফেলা।
১. উত্থাপিত সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন।
৩. বিতর্কিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা যাচাই করে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচন যেন কোনোভাবেই বিতর্কিত না হয়, সে বিষয়ে কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, জামায়াত এখনই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে না এবং সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে আগ্রহী।
বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























