Dhaka ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ জরিমানা ছাড়াই গাড়ির কাগজ ও লাইসেন্স হালনাগাদের মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ভোগান্তি এড়াতে অনতিবিলম্বে সুযোগ গ্রহণের পরামর্শ বিআরটিএ ও সচেতন মহলের! যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ফুলব্রাইটের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ ইউজিসির শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ: শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার আগ্রহ সখীপুরে কৃষিজমির মাটি খুঁড়ে মিলল ১৯৭১ সালের পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের অস্ত্রভাণ্ডার! জুলাই অভ্যুত্থান পেরোলেও বদলায়নি চিত্র: বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাই এখন সচিব! বরগুনার গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ ৫. অবৈধ সম্পদ অর্জন: সাবেক সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন দম্পতির ব্যাংক হিসাব জব্দ দুদকের আবেদন: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ বহাল: হাইকোর্টে খারিজ রিট

উখিয়ার ইনানীতে ৬ কোটি টাকার ‘বে হিলটন রিসোর্ট’ গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৮:০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা একটি চারতলা অবৈধ রিসোর্ট গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘বে হিলটন রিসোর্ট’ নামের এই ভবনটি কিছুদিনের মধ্যেই উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন এর মালিক।

গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র নয় দিন পর এই কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। ওই দুর্ঘটনার পরই মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য স্থাপনার বৈধতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

সোমবার প্রথমে সি-পাল হোটেলের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ‘বে হিলটন রিসোর্ট’টি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর আশপাশের আরও আট থেকে দশটি অবৈধ দোকানও উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আব্দুল্লাহ, কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি ও সচিব সানজিদা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযানে র‍্যাব, পুলিশ, আনসার, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক সদস্য সহায়তা করেন।

কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর কেন ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে মালিকপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পর্যায়ক্রমে মেরিন ড্রাইভ এলাকার সব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

কউকের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা প্রায় আড়াইশ রিসোর্ট ও হোটেলের বেশিরভাগেরই কউকের কোনো অনুমোদন নেই। ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এই এলাকায় তারকামানের মাত্র ২০ থেকে ২৫টি স্থাপনা নকশার অনুমোদন নিয়েছে।

রিসোর্টের মালিক শহিদুল হক দাবি করেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়েই তারা ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। এতে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। নিচতলায় দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের তলাগুলোতে পর্যটকদের রুম তৈরি করা হয়েছিল। চালু করার আগেই তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনের পাঠানো চারটি নোটিশেরই জবাব দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের কাছে ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রয়েছে; কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি।

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে প্রায় ২০০টি রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, যার বেশির ভাগই কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং অনুমোদনহীন। একাধিকবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ