
ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী (হেড ক্লার্ক) মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য, ঘুষ-দুর্নীতি এবং নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি অনিয়মের সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে পুলিশের ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ফরিদপুর প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ‘ফরিদপুর জেলার ঠিকাদারগণ ও সর্বসাধারণের পক্ষে’ ইউসুফ মিয়া স্বাক্ষরিত এই আবেদনটি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসআই (উপ-পরিদর্শক) পর্যন্ত বিভিন্ন পদের পুলিশ সদস্যদের সুবিধাজনক স্থানে পোস্টিং দেওয়ার কথা বলে নির্ধারিত হারে ঘুষ লেনদেন করেন মহিউদ্দিন। নির্দিষ্ট অংকের টাকা না দিলে তাদের দুর্গম বা অপছন্দনীয় স্থানে বদলি করার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সাধারণ পুলিশ সদস্যদের নৈমিত্তিক ও চিকিৎসা ছুটির ফাইল আটকে রাখাসহ অবসরপ্রাপ্ত কিংবা মৃত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পেনশন ফাইল ছাড় করাতে চরম হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অধীনস্থ কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন বা এসিআর-এ (ACR) ভালো নম্বর দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে। এছাড়া পদোন্নতির তালিকা আটকে রেখে কর্মচারীদের মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং নানা উপায়ে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
कार্যালয়ের বার্ষিক কেনাকাটা, স্টেশনারি ও বিভিন্ন মেরামত কাজের ভাউচারে কৃত্রিমভাবে অস্বাভাবিক বাজেট দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। মানিকগঞ্জের একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম এবং ঠিকাদারি কাজের বিলের বিপরীতে ৫% কমিশন নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
বৈধ আয়ের তুলনায় তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানিকগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী সড়কে ৮ তলা আলিশান বাড়িসহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন তিনি।
মহিউদ্দিনের এমন স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডে সাধারণ পুলিশ সদস্য ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা বাহিনীটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ অবস্থায় দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী মহিউদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. শামছুল আযমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এই মুহূর্তে এর বেশি আর কিছু বলা সম্ভব নয়।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















