
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আলোচিত যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একই সাথে চারটি সরকারি ডিলারশিপ কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়া রায়ের খবর ছড়িয়ে মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় আলোচনায় আসার পর তার এই ডিলারশিপ বাণিজ্যের বিষয়টি সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেন ছোট্টুর নিজের নামে টিসিবি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও সারের ডিলারশিপ রয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী শাহীন আক্তারের নামে রয়েছে ওএমএস (খোলা বাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি) ডিলারশিপ। এক পরিবারের নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ‘ছোট্টু ডাকাত’ হিসেবে পরিচিত এই যুবলীগ নেতা। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভোটকেন্দ্র দখলের সাথে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মামলার কথাও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন। প্রথমে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারী এবং পরে বিএনপির একটি অংশের সাথে সখ্য গড়ে তুলে তিনি ডিলারশিপগুলো টিকিয়ে রাখেন। এমনকি জামায়াত নেতার ডিও বা সুপারিশপত্র নিয়ে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যেখানে অনেক বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী আবেদন করেও বঞ্চিত হয়েছেন।
উপজেলা সদরে ‘মেসার্স সানিক ট্রেডার্স’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এর স্বাধীন সত্যতা মেলেনি।
খাদ্যবান্ধব, ওএমএস, টিসিবি ও সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালা ভিন্ন হওয়ায় একই পরিবারের একাধিক ডিলারশিপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ না হলেও, এ ক্ষেত্রে পারিবারিক বিধিনিষেধ এবং নিয়োগের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে পারিবারিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দীন চৌধুরী সোহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের মামলার আসামি ও চিহ্নিত যুবলীগ নেতা কীভাবে এতগুলো ডিলারশিপ পেল, তার জবাব উপজেলা প্রশাসন, খাদ্য ও কৃষি কর্মকর্তাকে দিতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও অভিযোগ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু। তিনি দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই ডিলারশিপগুলো নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ-বিন-আখন্দ জানান, ডিলারশিপের আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়। এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তথ্য যাচাই করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















