
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) এস.এম. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেট্রোবাংলার ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে
স্মারকলিপির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে পেট্রোবাংলা ভবনের প্রধান ফটকে টানানো একটি শোক ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক (প্রশাসন) নিজে উপস্থিত থেকে ব্যানারটি নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন, যা সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
বদল ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিসিএস ২১ ব্যাচের কর্মকর্তা এস.এম. মাহবুব আলম বিগত সরকারের আমলে বেলজিয়ামে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) পদে যোগ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে পেট্রোবাংলা ও অধীনস্থ ১০টি কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, প্রেষণ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের ফাইল আটকে রেখে একটি বিশেষ চক্রের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মতামত উপেক্ষা করে এককভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছে কর্মচারী ফেডারেশন।
১০ দফা দাবি ও আন্দোলনরতদের হুঁশিয়ারি
পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত কর্মচারী ফেডারেশন। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ব্যানার অপসারণের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।
তদন্তকালে প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিচালককে সাময়িক দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার।
বিগত কয়েক বছরের পদোন্নতি, বদলি ও কেনাকাটার নথিপত্র অডিট করা।
সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তাঁর সম্পদের উৎস অনুসন্ধান।
কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান না হলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি পরীক্ষা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কার্যালয়কে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
সার্বিক বিষয়ে অভিযুক্ত পরিচালক এস.এম. মাহবুব আলম মুঠোফোনে জানান, শোক ব্যানারটি দীর্ঘ ৫-৬ মাস ধরে ঝুলছিল এবং নোংরা হয়ে পড়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নতুন ব্যানার লাগানোর উদ্দেশ্যেই সেটি সরাতে বলা হয়েছিল। এছাড়া নিয়োগ, বদলি বা কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার তাঁর নেই দাবি করে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং যেকোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























