
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় ‘বলাকা’-য় সাংবাদিকদের প্রবেশে চলমান নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা)। একই সঙ্গে সংস্থাটিতে সংবাদকর্মীদের অবাধ তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জবাবদিহিতা দাবি করেছে সংগঠনটি।
গত ৬ অক্টোবর থেকে বলাকা ভবনে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দীর্ঘ ২১ দিন ধরে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রধান ফটক থেকেই ফিরে আসতে হচ্ছে এভিয়েশন বিটের সাংবাদিকদের। নিরাপত্তাকর্মীদের বরাط দিয়ে জানানো হয়েছে, ভেতরে প্রবেশ করতে হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিমানের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং যাত্রী দুর্ভোগ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণেই সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই তাদের প্রবেশে এই অঘোষিত বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সাংবাদিকদের আটকের ঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সে সময় বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সরাসরি নির্দেশেই এই বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবরও একই বাধার মুখে পড়েন গণমাধ্যমকর্মীরা। সৌদিগামী ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করতে বলাকায় যান বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিবেদক পার্থ রহমান এবং একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাশেদ আনিস। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের গেটেই আটকে দেন এবং এমডির অনুমতি ছাড়া প্রবেশাধিকার নেই বলে জানিয়ে দেন।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে ফ্লাইট সংকট ও যাত্রী হয়রানির বিষয়ে বিমানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি জনসংযোগ বিভাগের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য বা বক্তব্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বাটজার সাধারণ সম্পাদক ইমন চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিমান একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। জনস্বার্থে সাংবাদিকরা সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে যাবেন— এটাই স্বাভাবিক। প্রধান ফটক থেকে সাংবাদিকদের ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “২১ দিন ধরে সাংবাদিকরা তথ্য নিতে গিয়ে ফেরত আসছেন। এভাবে বাধা দেওয়া হলে সাংবাদিকরা কীভাবে সত্য তথ্য যাচাই করবেন এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা তুলে ধরবেন?”
সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সব ধরনের বাধা অপসারণ এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়ার পথ সুগম করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের প্রবেশে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাইজার সোহেল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























