
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধ এমপিওভুক্তি এবং বদলিতে কোটি কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষা প্রশাসনে সংস্কারের প্রত্যাশা করা হলেও মাউশির বর্তমান শীর্ষ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছে একচ্ছত্র দুর্নীতির সিন্ডিকেট।
মাউশির বর্তমান ডিজি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাতে ন্যস্ত হলেও তা তোয়াক্কা করা হয়নি।
মাধবদী সতী প্রসন্ন ইনস্টিটিউশন: ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক স্থগিত এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক এনটিআরসিএর অধীনে ন্যস্ত থাকা সত্ত্বেও নরসিংদীর এই প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ: নিয়োগকালীন কাম্য যোগ্যতা ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদ না থাকা সত্ত্বেও এবং হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকার পরও মাউশির তৎকালীন ডিজি ও বর্তমান ডিজির নির্দেশে ১০ শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
নাটোর ও তানোরের কলেজ: নাটোর সিটি কলেজ ও তানোর মহিলা কলেজের ৯ জন শিক্ষকের কোনো নিবন্ধন সনদ না থাকা এবং বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও মাউশি ডিজির বিশেষ নির্দেশে তাদের এমপিও ফাইল অনুমোদন করানোর অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে তা ‘ভুলক্রমে হয়েছে’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী মাউশির সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থগিত এমপিও প্রত্যাহার বা চালুর কোনো এখতিয়ার না থাকলেও, এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করে প্রতি ফাইল থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সৈয়দ ঈসা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ১৮ জন শিক্ষকের বাতিল হওয়া এমপিও পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে।
এছাড়া ৪৭ জন কম্পিউটার শিক্ষকের ২৯ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ছাড় করার বিপরীতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত (প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) কমিশন আদায়ের সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে জানা গেছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পদচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য হওয়া বিতর্কিত প্রধান শিক্ষকদের পুনর্বহাল এবং বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রধানদের ফেরাতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চিঠি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের বদলিতেও ২ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায়ের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে জানা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি সরাসরি অফিসে এসে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখার যুগ্মসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী জানান, দপ্তরের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সচিব বা মন্ত্রীর দপ্তরের। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, এমপি জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো কমিটিতে জমা দেওয়া হলে তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























