
নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের শূন্য পদে বসানোর লোভ দেখিয়ে এক নারী ইউপি সদস্যের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, টাকা দিয়েও পদ না পেয়ে ওই নারী সদস্য টাকা ফেরত চাইলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন বই চুরির চেষ্টারও অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট সচিবের বিরুদ্ধে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা বেগম কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং প্যানেল চেয়ারম্যান। সম্প্রতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে এক সালিসি বৈঠকে তিনি দাবি করেন, তাঁকে চেয়ারম্যান বানানোর কথা বলে সচিবসহ মোট ছয়জন এই টাকা নিয়েছেন।
তাঁর হিসাব অনুযায়ী—
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোকছেদুল ইসলাম নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা।
সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাসুদ নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোরসালিন নিয়েছেন ২০ হাজার টাকা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলিম নিয়েছেন ১০ হাজার টাকা।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জলিল নিয়েছেন ১০ হাজার টাকা।
১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসলেমা নিয়েছেন ১০ হাজার টাকা।
হোসনেয়ারা আক্ষেপ করে বলেন, “এখন আমার পদও নেই, টাকাও নেই। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না।”
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাতের আঁধারে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন বই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান অভিযুক্ত সচিব মোকছেদুল ইসলাম। এই কাজে এক গ্রাম পুলিশকে (চৌকিদার) ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গ্রাম পুলিশ মানিক জানান, সচিব তাঁকে চাবি দিয়ে রেজুলেশন বই নিয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের কাছে পাঠাতে চেয়েছিলেন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই গোপনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দীনকে চেয়ারম্যান করার বিষয়ে একটি রেজুলেশন তৈরি করে রোববার সকালে তা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দীন দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ীই তিনি চেয়ারম্যান হচ্ছেন। তাঁর দাবি, এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ হোসনেয়ারা নিজেও সচিবসহ বিভিন্নজনকে টাকা দিয়ে অনিয়ম করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, “আমি কোনো টাকা নিইনি। হোসনেয়ারা আমার টেবিলের ড্রয়ারে পাঁচ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিলেন, যা আমি একটি কাজে খরচ করেছি এবং দ্রুত ফেরত দিয়ে দেব। অন্যদের টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
গ্রাম পুলিশকে জড়িয়ে নাম আসার বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, “চৌকিদার কেন আমার নাম বলল? আমি তো তাকে আসতে বলিনি। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব। ইউনিয়ন পরিষদের কোনো বিষয়ের সঙ্গেই আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
পুরো ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে সরকারি কর্মচারী হিসেবে অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক 
























