
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও বেচাকেনা, চোরাচালান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চেইন পুলিং এবং রেলপথকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে জনসচেতনতামূলক বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রেলযাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শাহ আলম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রেলওয়ে স্টেশন ও রেলপথকে মাদক, চোরাচালান ও অপরাধমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একটি ভয়াবহ অপরাধ। এতে যাত্রী, চালক ও রেলকর্মীরা গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রী আহত হওয়া এবং একজনের চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। এ কারণে রেলওয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
সমাবেশে মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহন ও বিক্রির কাজে রেলপথ বা স্টেশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অপরাধের তথ্য গোপন না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি তরুণ ও কিশোরদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাথর নিক্ষেপ বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান
সমাবেশে বিশেষভাবে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। রেললাইনের পাশে বসবাসকারী পরিবার, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ, ইঞ্জিনে ওঠা, অপ্রয়োজনে চেইন পুলিংসহ ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনেও মাদক, চোরাচালান, জঙ্গিবাদ, পাথর নিক্ষেপ, চেইন পুলিং ও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ প্রতিরোধে একই ধরনের সচেতনতামূলক বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ
বক্তারা বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক, চোরাচালান বা রেলপথের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য পুলিশ ও জনগণের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শাহ আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে রেলযাত্রী ও স্থানীয়দের উদ্দেশে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
রেলওয়ে পুলিশের এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মাদক, চোরাচালান ও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপসহ রেলপথকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























