
মডেল থেকে সরাসরি কারাবন্দি— ভারতের লখনৌয়ের হাইপ্রোফাইল মডেল শ্রদ্ধা দুবের জীবনযাত্রায় এসেছে এক বড় পরিবর্তন। বিলাসিতা ছেড়ে এখন তাকে দিন কাটাতে হচ্ছে লখনৌয়ের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারের একটি সাধারণ কুঠুরিতে। গত ৯ অক্টোবর লখনৌয়ের একটি আবাসন থেকে ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই খবরের শিরোনামে রয়েছেন তিনি।
পুলিশ ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, লখনৌয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান ক্যাফে মালিক শিবা শর্মা। ওই একই আবাসনে শিবার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন শ্রদ্ধা দুবে। শিবার মৃত্যুর পর তার পরিবার হত্যার অভিযোগ তুললেও, শ্রদ্ধা শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে দাবি করে আসছেন যে শিবা আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনার পরই মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা দুবে, তার বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিলকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২২ অক্টোবর তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, শিবা শর্মার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা ও তার সঙ্গীদের পালাতে সহায়তা করেছিলেন আমির শেখ নামের এক ব্যক্তি। আমির ও তার সহযোগীরা কানপুর, নাগপুর এবং এমনকি নেপালেও তাদের আত্মগোপনের ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে নেপালে পুলিশের নজরে চলে আসায় গ্রেফতার এড়াতে তারা আবার ভারতে ফিরে আসেন এবং নাগপুরে লুকিয়ে থাকেন। শেষ পর্যন্ত নাগপুর থেকেই পুলিশ তাদের আটক করে। বর্তমানে পুলিশ আমির শেখ ও তার অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে জোর জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রথমে নিভৃতবাসে রাখার পর শ্রদ্ধা ও তার বোন রশ্মিকে ৪৫ জন নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের অনুপস্থিতি: গ্রেফতারের পর থেকে এখনও পর্যন্ত শ্রদ্ধা বা তার বোনের সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেননি।
নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থা: দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কারাগারের জেলার ঋত্বিক প্রিয়দর্শী। তবে তাদের আচরণে গভীর উদ্বেগ ও হতাশার ছাপ স্পষ্ট। বেশিরভাগ সময়ই তারা চুপচাপ বসে থাকেন এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলেন না।
খাবার ও ঘুম: প্রথম রাতে কারাগার থেকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হলেও মানসিক চাপের কারণে শ্রদ্ধা তা খেতে চাননি। প্রথম রাতে তার ঠিকমতো ঘুমও হয়নি। ভোর ৬টায় অন্য বন্দিদের মতোই তাকে ঘুম থেকে উঠতে হয়েছে।
বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বর্তমানে আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে এক অচেনা ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন মডেল শ্রদ্ধা দুবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























