
রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা গুলশানের বারিধারার ৫৫ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে ‘দোলা’ নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত এবং গ্রাহকদের নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
বারিধারার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স কিংবা অন্য কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতি বা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক ফ্ল্যাটে এই স্পা সেন্টারটি চালানো হচ্ছে। এছাড়া এলাকার নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা সংশয়।
অভিযোগের বিষয়ে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারের পরিচলক দোলা গণমাধ্যমকে জানান, “ভাই, আমি কোনোমতে এটি দিয়ে চলি। এখন আগের মতো তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে অনেক খরচ। কোনোমতে দুই-চারটি মেয়ে রেখে ব্যবসা করি। বারিধারায় কাস্টমার আসতে চায় না এবং এখানে ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি লাগে। আমরা গার্ডদের সঙ্গে সমন্বয় করেই লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি।” তবে পুলিশের পেমেন্ট ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে তাঁর একটি ভিডিও বক্তব্য নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্পা সেন্টারটিকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ বা অভিযান দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান থানার ওসি জানান, এ ধরনের বিষয় নিয়ে তাঁদের একাধিক সভা হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান বা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।
অন্যদিকে, প্রশাসনের এমন অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, আবাসিক এলাকায় যদি এ ধরনের অনৈতিক ও সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড চলতেই থাকে, তবে সাধারণ বাসিন্দারা কীভাবে নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করবেন?
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণভিত্তিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। সত্যতা মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কেউ প্রতারণা কিংবা কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ থানায় অভিযোগ জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 























