
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ভবিষ্যতে দেশের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে অনুষ্ঠানের একটি টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, শুধু একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করেই কমিশনের দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং ভবিষ্যতে যাতে সব নির্বাচন সেই উন্নত মানদণ্ড বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হয়, সেই ব্যবস্থা করাটাই মূল লক্ষ্য।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিইসি নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর সার্বিক প্রস্তুতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন: আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনা করে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ধারাবাহিকতা: ইউপি নির্বাচনের পরপরই পর্যায়ক্রমে পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমের সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি মাথায় রেখে সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
দলীয় প্রতীক নয়: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যাম: ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা রোধে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা (বডি ক্যাম) ব্যবহারের মাধ্যমে অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হবে।
কঠোর আচরণবিধি: আচরণবিধি বাস্তবায়নে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কালো টাকার ব্যবহার ও ভোট কেনার মতো অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা: স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা হবে।
জনগণের আস্থা: ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ: বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নতুন নারী ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রযুক্তি ও বিশেষ ভোটিং: প্রবাসী ভোটার, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কারাবন্দীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং ও বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
নারীদের অংশগ্রহণ: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি জানান, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার প্রয়োজন। ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আইনি লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলগুলোর সহযোগিতা জরুরি।
তরুণ প্রজন্ম: নতুন নিয়মের ফলে আরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পেরেছেন, যা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন: নির্বাচন কমিশন সবসময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়। জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের কমিশন থেকে এবং স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবের সাথে আলোচনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
সম্মিলিত সহযোগিতা: একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত নির্বাচন উপহার দিতে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারসহ সব অংশীজনের দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
অনলাইন ডেস্ক 
























