
জাতীয় গ্রিডের একটি অংশে আকস্মিক বিপর্যয়ের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় একটি অঞ্চলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য ৫ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজাকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-র পক্ষ থেকেও প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে প্রধান করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পিজিসিবির কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে ঢাকার মেঘনাঘাট-হরিপুর সঞ্চালন লাইনে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর জেরে রাজধানী ঢাকার পূর্ব অংশ এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো।
কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সঞ্চালন লাইনের সব পয়েন্টে পুনঃসংযোগ চালু করা সম্ভব হলেও, গ্রাহক পর্যায়ে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। পিজিসিবির প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের এই বিপর্যয়ের পর টেকনিক্যাল নানা জটিলতা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়।
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গ্রিড ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের ত্রুটি ছিল এবং এর পেছনে অন্য কোনো গাফিলতি আছে কি না—তা উভয় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরই পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























