
পড়ার কোনো নির্দিষ্ট টেবিল ছিল না। কখনো বিছানায়, আবার কখনো মায়ের সেলাই মেশিনের ওপর বই রেখে চালাতে হতো পড়ালেখা। বাড়িতে যাতায়াতের জন্য ছিল না কোনো পাকা রাস্তা—প্রতিবেশীর লিচুবাগানের সরু পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হতো টিনের ছাপড়া ঘরে।
তবে চরম আর্থিক অনটন ও নানা সীমাবদ্ধতা দমিয়ে রাখতে পারেনি দিনমজুরের মেয়ে সাদিয়া আফরিনকে। সব বাধা পেরিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর সরকারপাড়ার চালকল শ্রমিক মো. সেলিম ও গৃহিণী আরফা বেগম দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে সাদিয়া সবার বড়।
কাদের বকস মেমোরিয়াল হাই স্কুল থেকে একমাত্র সাদিয়া-ই এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
সাদিয়ার এই বিরল সাফল্যে পরিবারসহ পুরো গ্রামজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে এক অভাবনীয় গল্প।
গত বছরের জুলাইয়ে সাদিয়ার পড়াশোনার খরচের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেছিলেন তার মা।
সেখান থেকেই শুরু হয় সাদিয়ার জীবন পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, বরং নিজ দায়িত্বে নেন সাদিয়ার পড়াশোনার তদারকির ভার।
প্রতি বুধবার গণশুনানির দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সপ্তাহের পড়া দেওয়া এবং নতুন পড়া নেওয়া সাদিয়ার নিয়মে পরিণত হয়।
দীর্ঘ এক বছর ধরে জেলা প্রশাসক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তার পড়াশোনার তদারকি করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। নিয়মিত এই হোমওয়ার্ক ও তদারকির ফল মিলল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে।
মেয়ের এই সাফল্যে ভীষণ উচ্ছ্বসিত সাদিয়ার বাবা-মা। সাদিয়ার মা আরফা বেগম বলেন, “ডিসি স্যার শুধু টাকা দিয়ে সাহায্য করেননি, নিজের মেয়ের মতো পড়া নিয়েছেন ও খোঁজখবর রেখেছেন।”
ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন সাদিয়ার।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম সাদিয়ার এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “মেয়েটিকে একটি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, সে নিষ্ঠার সাথে রুটিন মেনে হোমওয়ার্ক সম্পন্ন করেছে। সাদিয়ার মতো হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।”
দিনাজপুর প্রতিনিধি 

























