
জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে গত মাসে সংঘটিত ব্যর্থ ড্রোন হামলার পেছনে সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেছে বার্লিন। এই ঘটনার জেরে মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মান সরকার। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে ক্রেমলিন।
হামলার বিবরণ ও তদন্তের তথ্য
গত ৪ আগস্ট ইউরোপ ও ন্যাটোর সামরিক বিমান চলাচলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র লিপজিগ বিমানবন্দরে ইউক্রেনগামী একটি পণ্যবাহী বিমানের কাছে সামরিক বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ড্রোনটি একটি বিমানের ডানায় আঘাত করে নিচে পড়ে যায়, তবে এটি বিস্ফোরিত হয়নি।
একই দিনে আরেকটি পণ্যবাহী বিমানের সঙ্গে দ্বিতীয় একটি ড্রোনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত ১৪ আগস্ট বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি এলাকা থেকে সামরিক বিস্ফোরকের আলামতসহ তৃতীয় আরও একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেকজান্ডার ডোব্রিন্ড জানান:
-
তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থার হয়ে কাজ করা পেশাদার ব্যক্তিরা এই হামলার নেপথ্যে ছিলেন।
-
ড্রোনের যন্ত্রাংশ, বিস্ফোরক ও প্রযুক্তির ধরণ ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত রুশ হাইব্রিড অভিযানের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
-
ভবিষ্যতে জার্মানি রাশিয়ার অনুরূপ হাইব্রিড হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জার্মানির ঘোষিত পদক্ষেপসমূহ
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াদেফুল রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ব্যবস্থার কথা নিশ্চিত করেছেন:
-
কনস্যুলেট বন্ধ: বন শহরে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
-
চুক্তি বাতিল: বার্লিনে অবস্থিত ‘রাশিয়া হাউস’-এর সংগে চলমান চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
কূটনৈতিক চাপ: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই নেচায়েভকে তলব করা হয়েছে এবং রুশ নাগরিকদের জার্মানিতে প্রবেশের নিয়মনীতি আরও কঠোর করা হচ্ছে।
-
অন্যান্য: রাশিয়ার কথিত ‘ছায়া নৌবহর’-এর ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করা হবে।
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
জার্মানির এসব পদক্ষেপ ও অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া:
-
দিমিত্রি পেসকভ (ক্রেমলিনের মুখপাত্র): জার্মানি উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার পথ বেছে নিয়েছে।
-
মারিয়া জাখারোভা (রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র): রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অজুহাত তৈরি করতেই বার্লিন এই গল্প সাজিয়েছে। মস্কো অবশ্যই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
সম্প্রতি ইতালি, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন অস্ত্র কারখানায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড ও নাশকতার ঘটনার পর লিপজিগের ঘটনাটি ন্যাটো মিত্রদের ভাবিয়ে তুলেছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে জানান, লিপজিগে এই কথিত হাইব্রিড হামলার পর ন্যাটো জার্মানির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে এবং বার্লিনের গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন জানায়। তবে জার্মানির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনে করেন, রাশিয়ার আগ্রাসী মনোভাব ঠেকাতে সরকারের এসব পদক্ষেপ এখনো যথেষ্ট নয়।
অনলাইন ডেস্ক 
























