
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ায় নিজেদের স্বর্ণের রিজার্ভে কৌশলগত রিলকেশন বা বড় পরিবর্তন এনেছে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক’ (ডিএনবি)। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থানান্তর করেছে।
ডিএনবি-র তথ্যমতে, নিউ ইয়র্ক বা অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে স্বর্ণ সহজে লেনদেন করা সম্ভব। যেকোনো সংকটকালে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে কারণেই এই স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লিজপেন উল্লেখ করেন, যদিও এই সোনা ব্যবহারের প্রয়োজন নাও হতে পারে, তবুও নিজস্ব সক্ষমতা ও পূর্বপ্রস্তুতি বাড়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানান্তরের পর নেদারল্যান্ডসের সোনা সংরক্ষণের বর্তমান চিত্র:
-
মোট রিজার্ভ: ৬১২.৪ টন (বাজারমূল্য প্রায় ৭২.২ বিলিয়ন ইউরো বা ৮৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
-
লন্ডন (যুক্তরাজ্য): আগে ছিল ১৮.১ শতাংশ, যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৩২.১ শতাংশ।
-
নেদারল্যান্ডস (নিজস্ব ভল্ট): সংরক্ষিত রয়েছে ৩০.৮ শতাংশ।
-
নিউ ইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) ও অটোয়া (কানাডা): পূর্বের সংরক্ষিত হার কমে উভয় স্থানেই এখন রয়েছে ১৮.৫ শতাংশ করে।
চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এই প্রক্রিয়ায় কেনাবেচা ও শারীরিক পরিবহনের একটি মিশ্র পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি ভৌত স্বর্ণ এনে জাইস্টে রাখা হয় এবং সমপরিমাণ স্বর্ণ জাইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়, ফলে গোল্ড বারগুলো গলানোর প্রয়োজন পড়েনি।
প্যারিসভিত্তিক ‘ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টার’-এর প্রেসিডেন্ট লরেন্ট শোয়ার্টজ মনে করেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গভীর ও তরল বাজারের কারণে লন্ডনে সোনা রাখা সুবিধাজনক। তবে বিশ্লেষক জন প্লাসার্ড সতর্ক করেছেন, অন্য দেশগুলোও যদি একই পথ অনুসরণ করে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। উল্লেখ্য, জার্মানির বুন্ডেসব্যাংক নিউ ইয়র্কে রাখা তাদের স্বর্ণ সরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























