
পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ও ঐতিহাসিক সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত থাকার মাঝেই সিন্ধু নদের ওপর একটি পরিবেশবান্ধব বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত।
লাদাখের লেহ অঞ্চলের উপসাই এলাকায় নির্মিত এই বাঁধটি অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের সেচসংকট দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঁধটির নির্মাণশৈলী বেশ স্বতন্ত্র—এতে কোনো সিমেন্ট ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে পাথরের বড় বড় বোল্ডার দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে।
কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ও পানির স্তর বৃদ্ধি
-
পানির স্তর বৃদ্ধি: বাঁধটি নির্মাণের ফলে ওই এলাকায় সিন্ধু নদের পানির স্তর প্রায় ১০ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।
-
বিশাল পানিধারণ ক্ষমতা: বর্তমানে এই বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে, যা ইগু ফে খালসহ অন্যান্য স্থানীয় খালের মাধ্যমে অনাবাদি জমিতে সরবরাহ করা হচ্ছে।
-
অনাবাদি জমিতে সেচ: ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে আগে শুষ্ক মৌসুমে নদী থেকে পাম্পের মাধ্যমেও পানি তোলা সম্ভব হতো না। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে পানির স্তর উঁচুতে ওঠায় লাদাখের যেসকল জমি এতদিন পানির অভাবে অনাবাদি পড়ে ছিল, সেগুলোতে এখন নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট ও কূটনৈতিক উত্তাপ ২০২৫ সালে পেহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি’ স্থগিত করে। চুক্তি স্থগিতের পর থেকে গত এক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে চরম কূটনৈতিক অচলবস্থা চলছে।
এই চুক্তির বিধিনিষেধের কারণে এতদিন সিন্ধু নদের পানি ব্যবহারে ভারতের বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা ছিল। চুক্তি স্থগিত থাকা অবস্থায় লাদাখের মূল ধারায় নির্মিত এই প্রথম বাঁধটি অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বদলে দিলেও, তা ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যকার বিদ্যমান উত্তাপকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অনলাইন ডেস্ক 

























