
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক ছাত্রশিবির নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড় মারাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারাত্মক উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার বিবরণ ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি। তিনি জানান, পরীক্ষা শেষে ক্রাচে ভর দিয়ে হলে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ছাত্র ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনূর রহমান তাঁকে হঠাৎ থাপ্পড় মারেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সহিংসতা ও ভাঙচুর ঘটনার পর শিবিরের নেতা-কর্মীরা আলীনূরের হলের ২১িত নম্বর কক্ষের সামনে গিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে আলীনূরকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় শিবিরের কর্মীরা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং প্রক্টরের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন।
ক্যাম্পাসজুড়ে মহড়া ও সড়ক অবরোধ বিকেলের দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ও প্রবেশপথে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়:
-
ছাত্রদল: ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে छात्रদলের নেতা-কর্মীরা। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়।
-
ছাত্রশিবির: বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়, লালন হল ও আজিজ হলের পকেট গেট এলাকায় শিবিরের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন।
-
স্থানীয় সংঘাত: সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র হাতে স্থানীয় বিএনপি-ছাত্রদল এবং পকেট গেটগুলোতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান করতে দেখা যায়।
বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য
-
ভুক্তভোগী (কাজী জুহায়ের): “আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে যাচ্ছিলাম, আলীনূর অহেতুক এসে আমাকে থাপ্পড় দেন। কারণ জানতে চাইলে বলেন—’তুই বেয়াদব, তাই মারছি’।”
-
অভিযুক্ত (আলীনূর রহমান): জুহায়েরকে বেয়াদব বলা ও থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
-
ছাত্রদল (মাসুদ রুমী, আহ্বায়ক): বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রক্টর কার্যালয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান।
-
ছাত্রশিবির (ইউসুফ আলী, সভাপতি): “আমাদের হল সেক্রেটারিকে অহেতুক মারধর করা হয়েছে। ছাত্রদল বহিরাগতদের এনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মতো সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে।”
-
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ: প্রক্টর অধ্যাপক মো. শাহীনুজ্জামান জানান, দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























