
লর্ডস টেস্টের সম্প্রচারকালে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাক্ষাৎকার কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন তার ছোট ছেলে কাশিম খান। সাক্ষাৎকারটি দেখানোর পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং খেলোয়াড়দের মাঠে না নামানোর হুমকির বিষয়টিকে চরম ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ ও ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাশিম বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে কিছুটা অসন্তোষ আশা করলেও পরিস্থিতি যে এই পর্যায়ে পৌঁছাবে তা তাদের ধারণার বাইরে ছিল।
সংবাদের মূল বিষয়বস্তু:
-
পিসিবির প্রতিক্রিয়া ও হুমকি: লর্ডস টেস্টের মধ্যাহ্নভোজের পর ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাশিম খানের সাক্ষাৎকার ব্রিটিশ টিভিতে প্রচারিত হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পিসিবি। এমনকি একপর্যায়ে খেলোয়াড়দের মাঠে না নামানোরও হুমকি দেওয়া হয়। তবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি এ সাক্ষাৎকার দেখায়নি।
-
মানবিক ইস্যু, রাজনীতি নয়: কাশিম খান স্পষ্ট করেন, ২২ বছর ধরে ইংল্যান্ডে বসবাসরত পাকিস্তানের একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে নিয়ে সাক্ষাৎকার প্রচার বন্ধ করার কোনো এখতিয়ার পিসিবির নেই। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা ছিল না, বরং একজন অসুস্থ বাবার জীবন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত মানবিক বিষয়।
-
ধীরে ধীরে স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ: বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে কাশিম অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ চাইছে ইমরান খানকে আড়ালে রেখে স্তব্ধ করে দিতে, যেন সময়ের সাথে মানুষ তাকে ভুলে যায়।
আদালতের নির্দেশ অবমাননা ও চিকিৎসা প্রহসন:
ইমরান খানের চিকিৎসাসেবা নিয়ে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তার দুই ছেলে।
-
হাসপাতাল পরিবর্তন: সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশনা দিলেও তাকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তড়িঘড়ি করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
-
পরিবারের অসন্তোষ: চিকিৎসকদের প্রস্তুতি ও আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও এমন আচরণকে এক ধরনের “প্রহসন ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া” হিসেবে দেখছেন কাশিম।
-
অভিযোগের আঙ্গুল: ইমরানের পরিবার ও বোন তাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে শারীরিক পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বড় কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা:
বাবার অসুস্থতার খবর যেভাবে ধাপে ধাপে সামনে আনা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ জানান বড় ছেলে সুলাইমান খান। তার মতে, প্রশাসন এমন এক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে যাতে পরবর্তীতে কোনো অপ্রিয় ঘটনা ঘটলে সেটিকে স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়া যায় এবং দায় এড়ানো যায়।
অনলাইন ডেস্ক 























