
২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের টেকসই জ্বালানি কাঠামো নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কাটিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ধাবিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টায় রাজবাড়ী জেলার কলিমহড় গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবেলায় সরকারের এসব ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান।
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা
ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে গ্রাহকদের সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ না দেওয়া, বিগত সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও শিল্প কারখানাগুলো চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তিনি জানান, উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ২০,০ হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনেছে।
গ্যাস অনুসন্ধান ও বাপেক্সের ব্যবহার
সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে খুব দ্রুত নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ড. তিতুমীর জানান, সরকার প্রায় ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা করেছে এবং এ কাজে দেশীয় সংস্থা ‘বাপেক্স’-কে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানো হবে, যাকে বিগত আমলে অবহেলা করা হয়েছিল।
পদ্মা ব্যারেজ ও আন্তর্জাতিক পানিবণ্টন চুক্তি
কৃষি ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নদ-নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারে একনেকে (ECNEC) ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি বিদ্যুৎও উৎপাদন করা হবে।
এছাড়া, ভারতসহ উজানের দেশের সাথে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে ন্যায্য হিস্যা আদায় করা হবে। ভাটি অঞ্চলের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে একটি কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে, যা শিগগিরই ভারতীয় পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে।
অনলাইন ডেস্ক 
























