
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চব্বিশের গণ-আন্দোলন দমনে চলা সহিংসতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে প্রসিকিউশনের দুই সাক্ষী জানান, তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার সহযোগীদের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও অংশগ্রহণে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষ্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাহমুদ হোসেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান:
-
আন্দোলনে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি: আন্দোলন চলাকালে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, জালকুড়ি লিংক রোড ও নারায়ণগঞ্জ সদরে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তারা বারবার হামলার শিকার হন। এ সময় দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু গুলিবিদ্ধ হন এবং টিয়ারশেলের আঘাতে তিনি নিজেও আহত হন।
-
১৯ জুলাইয়ের সহিংসতা: সেদিন চাষাঢ়া ও জালকুড়ি এলাকায় শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ভয়াবহ গোলাগুলি চালানো হয়। এতে আদিল ও ইয়াছিনসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। এছাড়া একই দিন সন্ধ্যায় ডিআইটি সড়কে গুলিবিদ্ধ হয়ে রিয়া গোপ নামের এক শিশুকন্যা নিহত হয়।
-
৫ আগস্টের বর্বরতা ও মামাতো ভাই হত্যা: ৫ আগস্ট একটি প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে শামীম ওসমানের অনুসারীরা মাহমুদ হোসেনের মামাতো ভাই ও দলের কর্মী বদিউজ্জামানকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শহীদ মিনার মোড়ে শামীম ওসমানের প্রত্যক্ষ উস্কানি ও আদেশে—”মার মার” বলতেই—অনুগামীরা রড, লোহার পাইপ ও গাছের ডাল দিয়ে বদিউজ্জামানকে নির্মমভাবে পেটায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাহমুদ হোসেন তার মামাতো ভাই হত্যার জন্য শামীম ওসমানসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
ছেলের বিচার চাইলেন পিতা মাহমুদ হোসেনের পর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ফতুল্লার বাসিন্দা মোশারফ ব্যাপারী। ২০২৪ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় তার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সাক্ষ্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “শামীম ওসমানের ছেলে, ভাতিজা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে।” তিনি তার সন্তানের হত্যাকারীদের ফাঁসি ও বিচার দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এই মামলায় শামীম ওসমানসহ মোট ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























