
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘাত, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মিরপুর ও কাফরুল থানায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, જેમાં প্রায় দুই হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি।
অভিযান চলাকালে হোপ মার্কেট সংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে ১৫-২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ হকার ও স্থানীয় দোকানিরা ডিএনসিসির কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। সংঘাত চলাকালে হকাররা সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া ঘটনার চিত্র ধারণ করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হন গণমাধ্যমকর্মীরাও। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল।
পরবর্তীতে দুপুরের দিকে ডিএনসিসি পুনরায় অভিযান চালিয়ে মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করে।
ঘটনার পর ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন পরিদর্শন করে বলেন, এই হামলা ও অগ্নিসংযোগ পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় মোট ৪টি মামলা হয়েছে:
-
: ওসি হাফিজুর রহমান জানান, ডিএনসিসি, পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসিসির গাড়িতে আগুন ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে প্রতিটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
-
কাফরুল থানা (১টি মামলা): ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 























