
দেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ‘পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি স্পষ্ট জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
: অনুষ্ঠানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব। আমাদের মূল লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।” এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন, অর্থায়ন এবং মূল কারণ সমাধানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সমস্যার উৎপত্তি মায়ানমারে, তাই সমাধানও সেখানে হতে হবে।
কৃষিকে দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক সেচ, অর্থায়ন এবং কৃষকদের বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির কথা জানান। পাশাপাশি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে বেশ কিছু বড় পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন:
-
খাল খনন: আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন।
-
মেগা প্রকল্প: পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ত্বরান্বিত করা এবং ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ।
পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) বৃক্ষরোপণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সৌরশক্তি বিস্তার, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কারখানা গঠনে সরকারের জোর দেওয়ার কথা জানান। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফাইড কারখানার মধ্যে ৫৩টিই বাংলাদেশে অবস্থিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে আয়োজিত এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, কূটনীতিক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞসহ সহস্রাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। আগামী ৫ অক্টোবর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি সমাপ্ত হবে।
অনলাইন ডেস্ক 
























