
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে আক্রান্ত রোগীদের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকার মাত্রা হ্রাস পাওয়া। সেই সঙ্গে দেখা দেয় শরীরে তীব্র ব্যথা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ মানুষের রক্তে প্লাটিলেটের স্বাভাবিক মাত্রা দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ থাকলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রেই এই মাত্রা কমে যেতে পারে। তবে কেবল ডেঙ্গু নয়, অন্যান্য ভাইরাসবাহিত জ্বরেও রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, রোগের শুরুতেই সঠিক চিকিৎসা প্রদান এবং শরীরে তরলের মাত্রা সঠিক রাখা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি রোগীর দ্রুত আরোগ্য ও শরীরে পুষ্টির জোগান দিতে খাদ্যতালিকায় বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। রক্তে অণুচক্রিকার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ও শরীর পুনর্গঠনে সহায়ক কিছু প্রয়োজনীয় খাবার নিচে তুলে ধরা হলো:
-
পেঁপে ও পেঁপেপাতার রস: ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পেঁপে খাওয়া যেমন উপকারী, তেমনি অণুচক্রিকার সংখ্যা বাড়াতে পেঁপেপাতার রস বা সেদ্ধ পাতার ব্যবহার বেশ প্রচলিত ও কার্যকর বলে গণ্য করা হয়।
-
ব্রোকলি: প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘কে’, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজে ভরপুর ব্রোকলি অণুচক্রিকা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকলে প্রতিদিনের খাবারে ব্রোকলি যোগ করা যেতে পারে।
-
বেদানা: আয়রন ও প্রয়োজনীয় খনিজে সমৃদ্ধ বেদানা শরীরের সার্বিক দুর্বলতা দূর করে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে, যা সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে।
-
পালং শাক: আয়রন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ পালং শাক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
-
ডাবের পানি: ডেঙ্গুর প্রধান ঝুঁকি পানিশূন্যতা দূর করতে ডাবের পানি বেশ কার্যকরী। এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট ও খনিজ উপাদান শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে।
বিশেষ সতর্কবার্তা: পথ্য বা খাবার অসুস্থতায় সহায়ক হলেও ডেঙ্গুর চিকিৎসার বিকল্প নয়। প্লাটিলেট কমে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরে অন্য কোনো জটিল উপসর্গ দেখা দিলে কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিলম্ব না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























